spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

কম ভাড়ায় গৃহকর্মী-নিরাপত্তাকর্মীদের ফ্ল্যাট দেবে সরকার

জেড নিউজ, ঢাকা:

গৃহকর্মী, চালক, নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ নিম্ন-আয়ের মানুষের জন্য উত্তরায় আধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। যাদের মাসিক আয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে তারা এসব ফ্ল্যাটে কম ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তবে থাকবে কিছু শর্ত।

‘উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে সোশ্যাল হাউজিং নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। আধুনিক এসব ফ্ল্যাটে মাসে মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে থাকতে পারবেন নিম্ন আয়ের মানুষ। বেজমেন্টসহ ১২-তলা বিশিষ্ট একটি বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এর আয়তন ৩ লাখ ৭০ হাজার ১৬০ বর্গফুট। এই বাণিজ্যিক ভবনের আয় দিয়ে ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের সার্বিক চাহিদা মেটানো হবে। তবে এই ফ্ল্যাট পেতে হলে সংশ্লিষ্টদের সার্ভিস দিতে হবে উত্তরা এলাকায়।

প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৮২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। চলতি সময় থেকে ২০৩১ সাল মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পটির প্রধান উদ্দেশ্য নিম্ন-আয়ের জনসাধারণের আবাসন সমস্যা নিরসন করা। উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’ ব্লকের আবাসিক এলাকাসহ উত্তরা তৃতীয় পর্ব প্রকল্পের বাসিন্দাদের গৃহস্থালি ও অন্য সেবা নিশ্চিত করা হবে। রাজউক সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

রাজউক জানায়, প্রকল্পের আওতায় ছয়তলা বিশিষ্ট ছয়টি আবাসিক ভবনে ৬শ বর্গফুটের ৩০৮টি ও ৪শ বর্গফুটের ২৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। ছয়তলা বিশিষ্ট একটি মসজিদ ভবন, অভ্যন্তরীণ রাস্তা ও ফুটপাত, একটি পার্ক, তিনটি খেলার মাঠ থাকবে প্রকল্পে।

এছাড়া, প্রতিটি ভবনে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে গাড়ির চালক, নিরাপত্তাকর্মী, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ যাদের পারিবারিক মাসিক আয় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে তাদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

প্রকল্পে কোম্পানি নিয়োগের মাধ্যমে একটি নীতিমালার আওতায় ফ্ল্যাটগুলো ভাড়াভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। সংগৃহীত ভাড়ার ৪০ শতাংশ তৃতীয়পক্ষ ব্যবস্থাপনা ফি হিসেবে পাবে এবং ৬০ শতাংশ রাজউকের কাছে রিজার্ভ থাকবে এবং তা বিভিন্ন ধরনের মেরামত ও তদারকির জন্য ব্যবহৃত হবে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ জানায়, সাশ্রয়ীমূল্যে পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা দিতে চায় সরকার। পর্যায়ক্রমে দেশের সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। সমগ্র দেশের নিম্ন-আয়ভুক্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনা করবে সরকার। সরকারের আর্থিক ও বাস্তব সক্ষমতা অনুসারে গুচ্ছাকারে বা কর্মসূচিভিত্তিক প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রকল্প নিয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের উত্তরা এলাকার সার্ভিস প্রোভাইডার হতে হবে। সাড়ে সাত হাজার টাকায় ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবেন। তবে এখনো প্রকল্পের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। কিছু বিষয় এখনো সংশোধন হবে।-রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন-৬) শেখ মো. গোলাম রাব্বী
প্রকল্প প্রসঙ্গে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন-৬) শেখ মো. গোলাম রাব্বী জাগো নিউজকে বলেন, ‘উত্তরায় ১৮ নম্বর সেক্টরে সোশ্যাল হাউজিং নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তবে ডিপিপি অনুমোদন হয়নি।’

ফ্ল্যাটগুলো কারা পাবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ মো. গোলাম রাব্বী বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের উত্তরা এলাকার সার্ভিস প্রোভাইডার হতে হবে। সাড়ে সাত হাজার টাকায় ফ্ল্যাটে বসবাস করতে পারবেন। তবে এখনো প্রকল্পের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। কিছু বিষয় এখনো সংশোধন হবে।’

নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা-জয়দেবপুর রুটে চলবে দেশের প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন
প্রকল্পের প্রস্তাবনা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের ৭ জুন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূইঁয়ার সভাপতিত্বে রাজউকের প্রস্তাবিত প্রকল্প নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। সভায় প্রকল্পের বিষয়ে কিছু সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।

কিছু বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে কমিশন
পরিকল্পনা কমিশন জানায়, গৃহকর্মী-নিরাপত্তাকর্মী শ্রেণির জনগোষ্ঠীর মাসিক আয় কত তা সমীক্ষা করে জানা প্রয়োজন। এছাড়া, ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা মাসিক আয়ের জনগোষ্ঠী ও প্রস্তাবিত আয় গ্রুপের অবশিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বা হবে তার বিস্তারিত পরিকল্পনা নেই। এ বিষয়ে সমীক্ষা থাকলেও তা নির্বাচনি ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না দেখতে হবে।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে ৪শ ও ৬শ বর্গফুট আয়তনের ৫৯২টি আবাসিক ফ্ল্যাটের সংস্থান রয়েছে। এসব ফ্ল্যাট যাদের জন্য যে পদ্ধতিতে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে তা তাদের জন্য যথেষ্ট কি না পরিকল্পনা করা দরকার। এদের পরিবারের আকার যখন বড় হবে, তখন তারা এ আয়তনের ফ্ল্যাটে থাকতে আগ্রহী কি না এবং এত স্বল্প আয়তনের ফ্ল্যাটে থাকা এ জনগোষ্ঠীর জন্য গ্রহণযোগ্য কি না- এসব বিষয়েও সমীক্ষা প্রয়োজন বলে মনে করে কমিশন।

জমির বাজারমূল্য ধরে প্রকৃত অর্থে তাদের জন্য কী পরিমাণ ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে তার বস্তুনিষ্ঠ হিসাব জানা দরকার। অন্য সেক্টরের সঙ্গে মিল রেখে প্রস্তাবিত সেক্টরে প্রথমে আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের গ্রহণযোগ্য মিশ্রণে বহুতল ভবন নির্মাণ বিবেচনায় নিয়ে প্রকল্পের আয়-ব্যয় বিশ্লেষণ করা জরুরি।

পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণে সর্বোত্তম পদ্ধতি অনুসরণ করা যেন ‘অপরচুনিটি কস্ট’ উচ্চ না হয়। ভেবে দেখা দরকার গাড়ির চালক, গৃহকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নিরাপত্তাকর্মীদের কোনো একটি নির্দিষ্ট সেক্টরে রাখা যৌক্তিক হবে কি না? আরও একটি বিকল্প ভাবনার কথা বলেছে কমিশন। যাদের জন্য এ প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে তাদের পরিবহন সুবিধা দিয়ে উত্তরার কাছাকাছি অপেক্ষাকৃত স্বল্পমূল্যের জমিতে আবাসনের ব্যবস্থা করার কথা ভাবা যেতে পারে। এভাবে যতগুলো বিকল্প বিবেচনা করা সম্ভব, সবগুলো বিবেচনায় নিয়ে যৌক্তিকভাবে বিশ্লেষণ করে সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিতকরণের জন্য একটি কার্যকর সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া প্রয়োজন বলে অভিমত পরিকল্পনা কমিশনের।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকল্পে কর্মীদের কর্মস্থলের নিকটবর্তী আবাসনের ব্যবস্থা করা হলে তাদের উৎপাদনশীলতা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বাড়বে। ৮২৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাব্য প্রভাব অত্যন্ত সীমিত। কোন পদ্ধতিতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পরিমাপ করা হয়েছে তা-ও স্পষ্ট নয়।

জমির বাজারমূল্য বিবেচনা করলে প্রকল্পের প্রকৃত প্রাক্কলিত ব্যয় আরও অনেক বেশি হবে। এসব কর্মীর আবাসস্থল থেকে অন্য সেক্টরের কর্মস্থলে রিকশা অথবা হেঁটে যাতায়াত সহজ হবে না। ফলে, প্রকল্পটির বিপুল প্রাক্কলিত ব্যয়ের বিপরীতে প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আকাঙ্ক্ষা মোতাবেক সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনা করবে। কোথায়, কতটুকু, কখন, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কেননা নির্বাচনি ইশতেহারের আকাঙ্ক্ষা তো পুরো দেশের জন্য।-পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) নেয়ামত উল্যা ভূইঁয়া

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সিনিয়র সচিব) নেয়ামত উল্যা ভূইঁয়া বলেন, ‘গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের আকাঙ্ক্ষা মোতাবেক সামগ্রিকভাবে পরিকল্পনা করবে। কোথায়, কতটুকু, কখন, কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। কেননা নির্বাচনি ইশতেহারের আকাঙ্ক্ষা তো পুরো দেশের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘প্রকল্পটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মহৎ এবং সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। তবে, প্রকল্পে পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) তৈরি হয়নি। ডিপিপিতে তথ্যের অপ্রতুলতা, অসামঞ্জস্য ও উপস্থাপনাগত ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে।’

এছাড়া, সম্ভাব্যতা সমীক্ষাটিও অসম্পূর্ণ ও দুর্বল জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট বরাদ্দ নীতিমালা যেটি করা হয়েছে তা-ও আংশিক বা অসম্পূর্ণ। প্রকল্পটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মহৎ হলেও তথ্য-উপাত্ত আরও বিস্তৃত ও সঠিকভাবে সমৃদ্ধ করে যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে ভবনের উচ্চতা ছয়তলার বেশি হলে নির্মাণব্যয়, লিফট ও ফায়ার সেফটি সংক্রান্ত খরচ বেড়ে যাবে এবং ভবনের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বাড়বে। ফলে প্রকল্প গ্রহণ কঠিন হয়ে যাবে। এসব বিবেচনায় ভবনের উচ্চতা ছয়তলার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ জানায়, উত্তরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান জায়গা ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু ব্যয় কম রেখে প্রকল্পকে কার্যকর করার জন্য ছয়তলা ভবন নির্মাণ যৌক্তিক হবে না। জায়গার গুরুত্ব ও মূল্য বিবেচনায় সর্বোত্তম ব্যবহারই যৌক্তিক হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়