জেড নিউজ ডেস্ক :
আমাদের নবী (সা.)-কে যে ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণীগুলো (জাওয়ামিউল কালিম) দান করা হয়েছে, তার অন্যতম হলো তাঁর এই বাণী—‘যে ব্যক্তি এমন কিছু পাওয়ার ভান করে, যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে যেন প্রতারণার দুটি পোশাক পরিধানকারীর মতো।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২১৯)
এই হাদিসে বহু ধরনের পাপ ও অপরাধ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো অহংকার, বাহ্যিক চাকচিক্যের প্রতি আসক্তি এবং তা নিয়ে গর্ব করার প্রবণতা।
বর্তমানে নারী-পুরুষের মধ্যে এমন অবস্থা দেখা যায় যে মধ্যম আয়ের মানুষ আর উচ্চ আয়ের মানুষের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। কিছু নারী দামি ব্র্যান্ডের পোশাক পরে তা নিয়ে গর্ব করেন, অথচ সেগুলো হয়তো ঋণ করে কেনা, ভাড়া করা, ধার করা কিংবা স্বামীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে সংগ্রহ করা। একইভাবে কিছু পুরুষ ঋণ ও অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি ও অভিজাত বাড়ি কেনেন।
এমনকি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঋণ করে অপচয় করেন—এভাবে এমন কিছু পাওয়ার ভান করেন, যা বাস্তবে তাঁদের সামর্থ্যের মধ্যে নেই। এসব আচরণগত বিচ্যুতির একটি হলো মানুষের কাছে পরিচিত ও বিখ্যাত হওয়ার জন্য নিজের কাছে নেই এমন সম্পদ বা জ্ঞানের অধিকারী বলে নিজেকে উপস্থাপন করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা নিজেদের কৃতকর্ম নিয়ে আনন্দিত হয় এবং যা তারা করেনি, তার জন্য প্রশংসিত হতে ভালোবাসে—তাদের কখনো শাস্তি থেকে মুক্ত মনে কোরো না। তাদের জন্য আছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৮৮)
‘প্রতারণার দুটি পোশাক’ হাদিসটির ব্যাখ্যা
আসমা (রা.) থেকে বর্ণিত, এক নারী বললেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার একজন সতিন আছে। আমার স্বামী আমাকে যা দেননি, তা পাওয়ার ভান করলে কি আমার কোনো গুনাহ হবে? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কিছু পাওয়ার ভান করে, যা তাকে দেওয়া হয়নি, সে যেন প্রতারণার দুটি পোশাক পরিধানকারীর মতো।’ (বুখারি, হাদিস : ৫২১৯)
শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যা (রহ.) বলেন, ‘যূর’ অর্থ এমন কিছুকে সাজিয়ে-গুছিয়ে বা রংচং মাখিয়ে উপস্থাপন করা, যা বাস্তবে তার প্রকৃত অবস্থার বিপরীত।
মিথ্যা দাবি করে বড়াই করার পরিণতি
মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা দাবি করে, এর মাধ্যমে নিজেকে বেশি কিছু বলে প্রকাশ করতে চায়, আল্লাহ তার অভাব ও ঘাটতি আরো বাড়িয়ে দেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬০৪৭)
কাজি ইয়াজ (রহ.) বলেন, এ বক্তব্য সব ধরনের মিথ্যা দাবিকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মাধ্যমে মানুষ এমন কিছু পাওয়ার ভান করে, যা তাকে দেওয়া হয়নি।
যেমন—অন্যের সম্পদ দিয়ে নিজেকে সম্পদশালী দেখানো; অন্যের বংশের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা; এমন জ্ঞান নিজের বলে প্রকাশ করা, যার প্রকৃত অধিকারী সে নয়; এমন ধার্মিকতা প্রকাশ করা, যা তার মধ্যে নেই।
এই নিন্দনীয় আচরণের প্রকাশ ঘটে যেভাবে
বড়াই ও অন্ধ অনুকরণ : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে কৃত্রিমতা ও বড়াইয়ের বহু উদাহরণ আছে। এ ধরনের নিন্দনীয় প্রদর্শন মানুষের মধ্যে সম্পর্কচ্ছেদ, বিদ্বেষ ও হিংসা সৃষ্টি করেছে। কেউ কেউ মানুষের সামনে নিজেকে ধনী ও সামর্থ্যবান দেখানোর জন্য দূরদেশে ভ্রমণ করেন, অথচ বাস্তবে ঋণের বোঝায় জর্জরিত। আবার কেউ কেউ বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের নকল পোশাক ও ব্যাগ কেনেন, যাতে মানুষ তাঁকে ধনী মনে করে।
না জেনে জ্ঞানী সাজার প্রবণতা : কেউ প্রকৃত জ্ঞানী না হয়েও জ্ঞানী হওয়ার দাবি করে। অথচ আল্লাহ তাআলা প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়কে হালাল বা হারাম বলাকে মিথ্যা অপবাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ বলেন, “তোমাদের জিহ্বা মিথ্যা বর্ণনা করে বলে, ‘এটি হালাল এবং এটি হারাম’—এভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করার জন্য তোমরা এমন কথা বলো না। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে, তারা সফল হবে না।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ১১৬)





