জেড নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক সহায়তা দিলে উপসাগরীয় দেশগুলোও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। বুধবারের (১৯ আগস্ট) এ হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি সংঘাত কিছুটা কমলেও হরমুজ প্রণালি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেল পরিবহণের পথ আবার চালুর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই আলোচনা ভেস্তে গেছে। দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান চলছে বলে খবর থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার দাবি করেন, আলোচনা আর হচ্ছে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিকে ‘নতুন মার্কিন ভূখণ্ড’ দেখিয়ে একটি পোস্টও দেন তিনি।
বুধবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি বলেন, ‘আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীকে যেকোনো ধরনের সহায়তা বা সহযোগিতা করা মানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া।’
যুদ্ধ শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ জানিয়েছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে দেবে না। তবে আবদোল্লাহি এসব প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক ঘাঁটিগুলোতে এত বিপুলসংখ্যক সামরিক বিমান, বিশেষ করে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অজ্ঞাতসারে অবস্থান করা কঠিন। উপসাগরীয় দেশগুলোর পরিস্থিতি সম্পর্কে ইরান ‘পুরোপুরি অবগত’ বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন ইরানের হামলার জবাবে দেশটির বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দেশ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন খবর অস্বীকার করেছে।
ইরানের সঙ্গে সব অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা আমিরাতের
মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, ব্যবসায়িক লেনদেন ও আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
ইউএই- এর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক আফরা আল হামেলি বলেন, আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আবুধাবি অভিযোগ করেছিল, ইরান তাদের দিকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। পরে তারা জানায়, ওই ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ।





