১৪/০৫/২০২৬, ১৬:১৮ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    ইসলামের দৃষ্টিতে কাওয়ালি গান

    জেড নিউজ , ঢাকা :

    ইসলাম মানুষের স্বভাব, অনুভূতি ও রুচির প্রতি সংবেদনশীল। তাই ইসলাম মানুষের অন্তরে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সা.)-এর ভালোবাসা জাগ্রত করার জন্য সুন্দর কথা, হৃদয়স্পর্শী কবিতা ও প্রশংসামূলক আবৃত্তি একেবারে অস্বীকার করে না; বরং তা যদি ইসলামী শরিয়তের সীমারেখার ভেতরে থাকে, তাহলে অনেক ক্ষেত্রে তা প্রশংসনীয়ও হতে পারে।

    এ কারণেই আল্লাহর হামদ, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নাত কিংবা নৈতিকতা ও উত্তম উপদেশভিত্তিক কাওয়ালি শর্তসাপেক্ষে শোনা ও গাওয়া বৈধ। বর্তমান যুগে ‘কাওয়ালি গান’ নামে যা প্রচলিত, তার একটি অংশে শরিয়তের সীমা অতিক্রম হওয়ার মতো বিষয় দেখা যায়। মিউজিক, বাদ্যযন্ত্র, বেপর্দা নারী, নৃত্য, শিরকি ও কুফরি বক্তব্য, অতিরঞ্জিত প্রশংসা এবং বিভিন্ন হারাম বিষয়ের অনুষঙ্গও এতে দেখা মেলে। ফলে এমন কাওয়ালি ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ না হওয়ার বিষয়টি সহজেই অনুমেয়।

    আবার মাজারকেন্দ্রিক কিছু কাওয়ালি অনুষ্ঠানও দেখা যায়, যা নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহ.), খাজা মুঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.) কিংবা অন্য নির্ভরযোগ্য বুজুর্গানে দ্বিনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়ে থাকে। অথচ বর্তমানে প্রচলিত কাঠামোতে কাওয়ালি তাঁদের থেকে সঠিকভাবে প্রমাণিত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ অজ্ঞতাবশত আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য অনর্থক কথাবার্তা ক্রয় করে এবং আল্লাহর পথকে ঠাট্টা-বিদ্রুপের বিষয় বানায়। তাদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

    অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর রহমানের বান্দা তারা, যারা মিথ্যা ও অসার কাজে উপস্থিত হয় না এবং যখন অনর্থক বিষয়ের পাশ দিয়ে যায়, তখন মর্যাদার সঙ্গে তা এড়িয়ে চলে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭২)

    ইসলাম সুন্দর ও সত্যভিত্তিক কবিতা-বক্তব্যকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার এক বেদুঈন মহানবী (সা.)-এর সামনে কথা বললে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই কিছু বাগ্মিতা জাদুর মতো এবং কিছু কবিতা প্রজ্ঞার মতো।’ (সুনানে আবি দাউদ, হাদিস : ৫০১১)

    এ থেকে বোঝা যায়, এমন কবিতা বা আবৃত্তি, যা মানুষকে সত্য, নৈতিকতা ও ঈমানের দিকে আহবান করে, তা মূলত নিষিদ্ধ নয়। সাহাবায়ে কেরামও ইসলামের পক্ষে কবিতা ব্যবহার করেছেন, বিশেষ করে বিশিষ্ট সাহাবি হাসান ইবনে সাবিত (রা.) ছিলেন মহানবী (সা.)-এর একজন কবি।

    তিনি ইসলামের শত্রুদের জবাবে কবিতা আবৃত্তি করতেন। এ প্রসঙ্গে সহিহ বুখারিতে এসেছে, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘হে হাসান! তুমি আল্লাহর রাসুলের পক্ষ থেকে জবাব দাও। হে আল্লাহ! আপনি তাঁকে পবিত্র আত্মা [জিবরাইল (আ.)] দ্বারা সাহায্য করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫৩)

    এ হাদিস প্রমাণ করে যে সত্য ও দ্বিনের পক্ষে ব্যবহৃত কবিতা ও কণ্ঠভিত্তিক উপস্থাপনা বৈধ হতে পারে। তবে ইসলাম একই সঙ্গে সতর্ক করেছে যেন কবিতা, গান বা বিনোদন মানুষের হৃদয়কে আল্লাহর স্মরণ থেকে গাফেল না করে দেয়। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) একবার এক কবিকে কবিতা পাঠ করতে দেখে বলেন, ‘মানুষের পেট কবিতায় পূর্ণ হওয়ার চেয়ে পুঁজ দ্বারা পূর্ণ হওয়া উত্তম।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৯৫)

    এর অর্থ হলো, যখন কবিতা বা গান মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হয়ে যায় এবং তা আল্লাহর স্মরণ ও দ্বিনের শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন তা নিন্দনীয় হয়ে পড়ে। আর ফকিহরাও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রশংসাসূচক কবিতা বা হামদ-নাতের কিছু বর্ণনা থেকে সাধারণ গানবাজনার বৈধতা প্রমাণ হয় না। (রাদ্দুল মুহতার, খণ্ড : ৯, পৃষ্ঠা-৫০৩)

    স্মরণীয় যে কাওয়ালি গান তখনই জায়েজ হতে পারে, যখন এতে কোনো বাদ্যযন্ত্র থাকবে না, শিরকি, কুফরি বা অতিরঞ্জিত বক্তব্য থাকবে না, বেপর্দা নারী বা অশ্লীল পরিবেশ থাকবে না, তা আল্লাহর স্মরণ, নবীপ্রেম ও নৈতিকতার দিকে আহবান করবে এবং তা ইবাদত থেকে গাফেল বা গুনাহের মাধ্যম হবে না। কেননা ইসলাম সৌন্দর্য, আবেগ ও হৃদয়ের ভাষাকে অস্বীকার করে না; বরং তা ইসলামী সীমারেখার ভেতরে পরিচালিত করতে চায়। তাই হামদ, নাত বা উত্তম কথাভিত্তিক বাদ্যযন্ত্রমুক্ত কাওয়ালি যদি ইসলামের বিধান মেনে পরিবেশন করা হয়, তাহলে তার অবকাশ আছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়