১৯/০৪/২০২৬, ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে চলছে শিক্ষকদের ধর্মঘট

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    সরকারি শিক্ষকদের হটকারী সিদ্ধান্তের কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বেতন ভাতা বৃদ্ধি সহ চার দফা দাবিতে আজ সোমবার থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। গত শনিবার বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির প্রধান সমন্বয়ক রেবেকা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়া হয়। শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, কর্মসূচির অংশ হিসেবে তারা চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও বন্ধ রাখবেন।

    এদিকে আগে থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একাংশের কর্মবিরতিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়গুলোর একাংশে আজ থেকে এবং কিছু বিদ্যালয়ে আগামীকাল থেকে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এদিকে শিক্ষকদের এ ধরনের ঘোষণায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

    বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির প্রধান সমন্বয়ক রেবেকা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক পদটি বিসিএস ক্যাডারভুক্ত করাসহ চার দফা দাবিতে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর বাস্তবায়ন পরিষদের পক্ষ থেকে চলমান চার দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য ঘোষিত যৌথ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ থেকে কর্মবিরতি পালন করবেন সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষকরা।

    মাধ্যমিক শিক্ষকদের চারটি দাবি হলো সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’-এর গেজেট প্রকাশ, বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেয়া এবং ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই-তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

    শিক্ষকরা জানান, ১৯৯১ সাল থেকে তাদের নবম গ্রেড পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি পাননি। তাদের টাইম স্কেল-সিলেকশনও ২০১৫ সালের আগে থেকেই পাওয়ার কথা। এছাড়া তাদের বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখার ৮৯০টি বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার শূন্য এবং ২০২২ সাল থেকে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া বর্তমানে ১ হাজার ৪০০ সিনিয়র শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলেও পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষকদের মতে, চারটি দাবি তাদের ন্যায্য পাওনা, যা আরো আগেই পাওয়ার কথা ছিল। সরকার দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো পূরণ না করাতেই কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

    বর্তমানে দেশে মোট সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৯১। এসব বিদ্যালয়ে শিক্ষক আছেন ১৫ হাজার ৩০৮ জন। শিক্ষার্থী আছে ৫ লাখ ৭১ হাজার ৬৮১ জন।

    এদিকে ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে বর্তমানে সহকারী শিক্ষকদের একাংশ আপাতত ১১তম গ্রেড দেয়াসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন। এ সংগঠনের নেতা মোহাম্মদ শাসছুদ্দীন জানিয়েছেন, রোববারের (গতকাল) মধ্যে তাদের দাবি পূরণের ব্যবস্থা করা না হলে সোমবার (আজ) শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করবেন তারা। গতকাল সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংগঠনটি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেনি।

    তবে সহকারী শিক্ষকদের আরেকটি সংগঠন ‘সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ জানিয়েছে, তারা বার্ষিক পরীক্ষা নেবেন। এ অংশের শিক্ষকরা গত ২৩ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন। সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি আদায়ে এ অংশ ১১ ডিসেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন।

    একাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, যদি একাংশও পরীক্ষা বর্জন করে তাহলে অনেক বিদ্যালয়েই পরীক্ষা শুরু করা সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ‘আমার বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পাঁচজন। তাদের মধ্যে তিনজন হয়তো এ কর্মসূচিতে থাকবেন। কারণ তারা সর্বশেষ কর্মবিরতি পালন করেছেন। সেক্ষেত্রে বাকিদের পক্ষে পরীক্ষা গ্রহণ কঠিন হবে। অনেক সময় দেখা যায় যারা কর্মবিরতি পালন করেন তারা অন্যদেরও ক্লাস-পরীক্ষা চালিয়ে নিতে নিরুৎসাহিত করেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে আলোচনা করছি। এখনো একদিন সময় আছে, আশা করছি কিছু একটা সমাধান আসবে।’

    সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি। এসব বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৬ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে বর্তমানে মোট শিক্ষক রয়েছেন ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬২৪ জন। সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত পদ ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১৬টি। বর্তমানে কর্মরত ৩ লাখ ৫২ হাজার ২০৮ জন।

    চলতি বছর প্রাথমিকের শিক্ষকরা মোট তিন দফায় কর্মবিরতিতে গেছেন। প্রথম দফায় কর্মবিরতিতে যান গত ২৬ মে। প্রথম দফায় তাদের মূল দাবি ছিল সহকারী শিক্ষকদের জন্য বেতন স্কেলের ১১তম গ্রেড। বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে আছেন। পরবর্তী সময়ে বেতন গ্রেড দশম করাসহ তিন দফা দাবি জানিয়ে সহকারী শিক্ষকরা ৯-১১ নভেম্বর পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাসে ১১ নভেম্বর তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেও ২৪ নভেম্বর থেকে এ তিন দফা দাবিতে আবারো কর্মবিরতি পালন করছেন।

    শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন,‘শিক্ষকরা আন্দোলনে থাকলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশেষত পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বা পরীক্ষার মধ্যে আন্দোলন করলে এর প্রভাব আরো বেশি পড়ে। দেশে শিক্ষায় নানা সংকট রয়েছে, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধায় ঘাটতি আছে। তাদের দাবিগুলোও অযৌক্তিক নয়। তবে এসব দাবিদাওয়া আলোচনার মাধ্যমেও সমাধান করা যেত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আমরা শিক্ষকদের একের পর এক যে আন্দোলনগুলো দেখছি তাতে প্রতীয়মান হচ্ছে যে কেউই শিক্ষার্থীদের কথা ভাবছে না এবং মূলত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরাই হচ্ছে।’

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়