১. আঞ্চলিক অস্থিরতা ও ভারতের উদ্বেগ: ভারতের তিন প্রতিবেশী—বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও নেপালে গত কয়েক বছরের মধ্যে সরকার পরিবর্তন আন্দোলনের মাধ্যমে হয়েছে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ভেঙে পড়ছে, যা ভারতের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষত নেপালের বর্তমান অস্থিরতা দিল্লির নীতিনির্ধারকদের উদ্বিগ্ন করেছে।
২. ভারত-নেপাল পারস্পরিক নির্ভরশীলতা: প্রায় ৩৫ লাখ নেপালি ভারতের শ্রমবাজারে যুক্ত এবং দুই দেশের মধ্যে ভিসা বা পাসপোর্টবিহীন যাতায়াত বিদ্যমান। এছাড়া ভারতীয় সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩২ হাজার গুর্খা সৈন্য রয়েছে। তাই নেপালের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কেবল কূটনৈতিক নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও ভারতের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
৩. কূটনৈতিক ভারসাম্যের সংকট: নেপালের বিক্ষোভকারীরা দেশটির সব প্রধান রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা করছে, অথচ ভারত তাদের সবার সঙ্গেই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এতে দিল্লির জন্য এক ধরনের “দড়ির ওপর হাঁটার মতো” অবস্থা তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষকে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়া ভারতের জন্য কৌশলগত ঝুঁকি ডেকে আনতে পারে।
৪. চীন-ভারত প্রতিযোগিতা ও প্রতিবেশী রাজনীতি: নেপালের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে চীন ও ভারতের মধ্যে সেখানে প্রভাব বিস্তারের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়েছে। নেপালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দুই দেশই হস্তক্ষেপ করছে—এমন অভিযোগ রয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এই প্রতিযোগিতা ভারতের প্রতিবেশী নীতি আরও জটিল করে তুলছে।
৫. ভারতের মহাশক্তি আকাঙ্ক্ষা বনাম বাস্তবতা: বিশ্লেষক অশোক মেহতার মতে, মহাশক্তি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর ভারত প্রতিবেশী সম্পর্কের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেয়নি। কিন্তু স্থিতিশীল ও নিরাপদ প্রতিবেশী পরিবেশ ছাড়া ভারতের জন্য বৃহৎ শক্তি হওয়ার পথ অনিশ্চিত। বাংলাদেশের টানাপোড়েন, পাকিস্তানের সঙ্গে শত্রুতা ও মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধের মধ্যে নেপালের অস্থিরতা ভারতের আঞ্চলিক কৌশলকে আরও দুর্বল করছে।
সোর্স: বিবিসি বাংলা



