জেড নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তীব্র সামরিক অভিযানের পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক রাষ্ট্রে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একযোগে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরানের পক্ষ থেকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এই নতুন ও ভয়াবহ সহিংসতার কারণে গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিটির ভবিষ্যৎ গভীর সংকটে পড়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ ও অসামরিক নাবিকদের অবাধ চলাচল সুরক্ষিত রাখতে এবং ইরানের আক্রমণ করার সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিতে মার্কিন বাহিনী নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে।
মার্কিন সামরিক মুখপাত্র টিম হকিন্স সিএনএন-কে জানিয়েছেন যে তাদের যুদ্ধবিমান আকাশ থেকে ইরানের একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং একটি আত্মঘাতী ড্রোন সফলভাবে গুলি করে নামিয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে এই সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে ‘আমরা তাদের চরম মার দিচ্ছি’।
ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত সামরিক ঘাঁটি সমৃদ্ধ বন্দর নগরী সিরিক, বন্দর আব্বাস এবং কাছাকাছি কুশেম দ্বীপে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন এই আগ্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
ওমানের মাস্কাটে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় আলোচনা সফল না হওয়ার পেছনে ওমানের ওপর ওয়াশিংটনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য চাপকে দায়ী করেছে তেহরান। ইতিমধ্যে ট্রাম্প বর্তমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করলেও আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন।
ইরানের শীর্ষ পরমাণু আলোচক মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াশিংটনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছেন যে ‘একতরফা চুক্তির দিন এখন শেষ। আমরা আপনাদের বলেছিলাম- কথা রাখুন নতুবা মূল্য দিন। বাস্তবতা এখন দরজায় কড়া নাড়ছে’।
গত আটাশ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমেরিকার শুরু করা এই যুদ্ধ পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং শুল্ক আদায়ের জন্য পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেইট অথরিটি নামের একটি নতুন সংস্থা গঠন করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বেআইনি তৎপরতার কারণে বর্তমানে এই জলপথ দিয়ে যান চলাচল সম্ভব নয় এবং পরিস্থিতি শান্ত হলে আবার নতুন করে পারমিট ইস্যু করা হবে। তবে আমেরিকা এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।
গত শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা তিন রাত ধরে অভিযান চালিয়ে ইরানের মোট একশত চল্লিশটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে যে তারা জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন কমান্ড সেন্টার ও ড্রোন হ্যাঙ্গার ধ্বংস করেছে, কুয়েতে মার্কিন রাডার ও রকেট লাঞ্চার সিস্টেমে আঘাত করেছে, ওমানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর জ্বালানি ও সহায়তা প্ল্যাটফর্মে হামলা চালিয়েছে এবং কাতারে মার্কিন ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র ও জেট বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
এই ব্যাপক সংঘাতের ফলে কাতারে শরাপনৈলের আঘাতে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছে এবং কাতার এই হামলার জন্য সম্পূর্ণ আইনি দায় ইরানের ওপর চাপিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও জর্ডান তাদের আকাশসীমায় ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে এবং কুয়েত জানিয়েছে যে তাদের একটি তেল উত্তোলন প্ল্যাটফর্মে হামলায় এক শ্রমিক আহত হয়েছেন। ওমান সরকার ড্রোন হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ওমানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে এবং ওমানের মার্কিন দূতাবাস তাদের নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছে।





