spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

রাতের খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিটের হাঁটাহাঁটিই আপনাকে রাখবে সুস্থ

জেড নিউজ , ঢাকা :

রাতের খাবার শেষ করেই আমরা সাধারণত সোফায় গিয়ে বসি, মোবাইল স্ক্রোল করি কিংবা সরাসরি ঘুমানোর প্রস্তুতি নিই। কিন্তু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতের খাবারের পর একটি সাধারণ অভ্যাস আপনার হজমপ্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

আর সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এর জন্য কোনো টাকা খরচ করতে হয় না এবং খুব বেশি সময়েরও প্রয়োজন পড়ে না।

রাতের খাবারের পর সামান্য হাঁটার অভ্যাস যে হজমশক্তি বাড়াতে, রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে—তা দীর্ঘদিন ধরেই প্রমাণিত।

সম্প্রতি এই অভ্যাসের পেছনে থাকা বৈজ্ঞানিক কারণ এবং তিনি নিজে কেন এটি কখনো বাদ দেন না, তা জানিয়েছেন অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস, হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ড. সৌরভ শেঠি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ড. শেঠি প্রতিদিন রাতের খাবারের পর হাঁটার তিনটি মূল কারণ ব্যাখ্যা করেছেন:

ড. শেঠির মতে, খাওয়ার পর হাঁটলে তা ‘গ্যাস্ট্রিক এম্পটিয়িং’ বা পাকস্থলী খালি হওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। সহজ কথায়, এটি খাবারকে পাকস্থলীর মধ্য দিয়ে আরও দক্ষতার সঙ্গে হজম প্রক্রিয়ার দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।

তিনি জানান, হাঁটার ফলে অন্ত্রের নাড়াচাড়া উদ্দীপিত হয়। এর ফলে পেট ফাঁপা, বুক জ্বালাপোড়া করা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা অনেকটাই কমে আসে। একটি মৃদু হাঁটা শরীরের ওপর কোনো বাড়তি চাপ না ফেলেই হজমতন্ত্রকে তার কাজ সঠিকভাবে করতে সাহায্য করে।

দ্বিতীয় কারণটি হলো রক্তে শর্করার চমৎকার নিয়ন্ত্রণ।

ড. শেঠি বলেন, খাওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিটের একটি হাঁটাও রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেয়, যা খাওয়ার পর অলস বসে থাকলে সাধারণত হয়ে থাকে।

এর কারণ হলো, আমরা যখন হাঁটাহাঁটি করি, তখন আমাদের পেশিগুলো শক্তির উৎস হিসেবে রক্তে থাকা গ্লুকোজ ব্যবহার করে। ফলে শরীর অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্লাড সুগার ম্যানেজ করতে পারে।

ড. শেঠি মনে করেন, মানুষ প্রায়ই এই সহজ অভ্যাসটিকে অবহেলা করে। তিনি বলেন, ‘মানুষ শরীর ডিটক্স করার জন্য বিভিন্ন জুস এবং দামি দামি প্রোগ্রামের পেছনে টাকা খরচ করে। কিন্তু রাতের খাবারের পর ১০ মিনিটের এই হাঁটা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা যায়, এর জন্য বাড়তি কিছুর প্রয়োজন নেই এবং এর পেছনে বহু দশকের চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্লিনিক্যাল প্রমাণ রয়েছে।’

পরিশেষে, সুস্থ থাকার জন্য আপনাকে খুব দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র কসরত বা কঠিন কোনো ফিটনেস রুটিন মেনে চলতে হবে না। রাতের খাবারের পর মাত্র ১০ মিনিটের একটি সাধারণ হাঁটাহাঁটি আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জীবনের অন্যতম একটি সহজ ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হয়ে উঠতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়