০৫/০৭/২০২৬, ২৩:৪৭ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    রাত জেগে বিশ্বকাপ দেখার সময় চোখের ক্ষতি এড়াবেন যেভাবে

    জেড নিউজ, ঢাকা।

    বিশ্বকাপের সময় ফুটবলপ্রেমীরা রাত জেগে একের পর এক ম্যাচ দেখছেন। শুধু খেলা দেখাই নয়, ম্যাচের আগে দল নিয়ে আলোচনা, লাইভ স্কোর দেখা, হাইলাইটস উপভোগ করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়েও দীর্ঘ সময় কেটে যাচ্ছে মোবাইল, ল্যাপটপ কিংবা টিভির পর্দার সামনে। তবে এই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু ঘুমের ব্যাঘাতই ঘটায় না, চোখের ওপরও ফেলতে পারে নেতিবাচক প্রভাব।

    দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে যেসব সমস্যা হতে পারে

    চক্ষু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ডিজিটাল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে ডিজিটাল আই স্ট্রেন বা চোখের ক্লান্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। খেলা দেখার উত্তেজনায় মানুষ সাধারণত স্বাভাবিকের তুলনায় কম পলক ফেলেন। ফলে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং চোখ শুকিয়ে যাওয়া, জ্বালাপোড়া, ঝাপসা দেখা, চোখ ভারী লাগা কিংবা মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

    এছাড়া দীর্ঘ সময় একই দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের পেশিগুলোও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এর প্রভাব হিসেবে মনোযোগ কমে যাওয়া বা চোখে অস্বস্তি অনুভূত হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

    ম্যাচ দেখার পর চোখ বেশি ক্লান্ত লাগে যে কারণে

    মোবাইলে লাইভ স্ট্রিমিং হোক কিংবা বড় টেলিভিশনের পর্দায় খেলা দেখার ফলে ফুটবলের দ্রুত গতির দৃশ্য অনুসরণ করতে চোখকে সব সময় ফোকাস ধরে রাখতে হয়। এতে চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে।

    বিশেষ করে এক রাতে যদি দুটি বা তিনটি ম্যাচ টানা দেখা হয়, তাহলে চোখ পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। ফলে পরদিন ঘুম থেকে ওঠার পরও চোখ ভারী লাগা, শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখার মতো সমস্যা অনুভূত হতে পারে।

    ঘুমের মানও কমতে পারে

    অনেকেই ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও মোবাইলে হাইলাইটস দেখেন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় কাটান। এতে স্ক্রিন থেকে নির্গত ব্লু লাইটের সংস্পর্শ আরও বেড়ে যায়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ব্লু লাইট শরীরে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এই হরমোন ঘুম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ঘুম আসতে দেরি হয়, ঘুমের মান কমে যায় এবং পরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও বেশি দেখা যেতে পারে।

    চোখের যত্নে যা করবেন

    বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করলেও চোখের সুরক্ষায় কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চলা জরুরি।

    প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য প্রায় ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে তাকান। এটি ২০-২০-২০ নিয়ম নামে পরিচিত।

    ম্যাচ দেখার সময় সচেতনভাবে বারবার পলক ফেলুন, যাতে চোখের আর্দ্রতা বজায় থাকে।

    টিভি বা কম্পিউটার স্ক্রিন থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বসুন।

    সম্পূর্ণ অন্ধকার ঘরে নয়, পর্যাপ্ত আলোতে ম্যাচ দেখুন।

    পর্যাপ্ত পানি পান করুন, কারণ শরীরে পানির ঘাটতি চোখের শুষ্কতা বাড়াতে পারে।

    মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপে ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড ব্যবহার করুন।

    হাফটাইম বা ম্যাচের বিরতির সময় কয়েক মিনিটের জন্য স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে বিশ্রাম দিন।

    চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন

    টানা স্ক্রিন ব্যবহারের পর সাময়িক চোখের ক্লান্তি অনেক ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি ঝাপসা দেখা, চোখে অতিরিক্ত শুষ্কতা, তীব্র জ্বালাপোড়া, বারবার মাথাব্যথা, চোখে ব্যথা বা ফোকাস করতে অসুবিধার মতো সমস্যা থেকে যায়, তাহলে দেরি না করে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

    বিশ্বকাপের আনন্দ উপভোগ করুন, তবে নিজের স্বাস্থ্যের দিকেও সমান নজর দিন। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে আপনি যেমন প্রিয় দলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন, তেমনি চোখও থাকবে সুস্থ ও আরামদায়ক।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়