জেড নিউজ ডেস্ক :
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে বিশ্বের অন্যতম বিরল প্রজাতির ওরাংওটান এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে। গত বছর দেশটির সুমাত্রা দ্বীপে আঘাত হানা এক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ‘টাপানুলি’ প্রজাতির অন্তত ৭ শতাংশ ওরাংওটান বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের এ মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বন্যা ও ভূমিধসের কারণে অন্তত ৫৮টি টাপানুলি ওরাংওটান মারা গেছে। এ বিশেষ প্রজাতির ওরাংওটানগুলো কেবল উত্তর সুমাত্রার বাতাং তোরু বনাঞ্চলে বাস করে। সারা বিশ্বে এখন মাত্র আটশটির মতো টাপানুলি ওরাংওটান বেঁচে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে এতগুলো প্রাণীর মৃত্যু তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ে এক বিরাট ধাক্কা।
২০২৫ সালে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ওই অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছিল। এ দুর্যোগে মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১ হাজার ২০০ মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন, সুমাত্রা দ্বীপে নির্বিচারে গাছ কাটার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বনাঞ্চল উজাড় করার ফলে পাহাড়ের মাটি আলগা হয়ে যায় এবং মারাত্মক ভূমিধসের সৃষ্টি হয়।
ব্রুনাইভিত্তিক গবেষণা সংস্থা বোর্নিও ফিউচার্স, ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন এবং লিভারপুল জন মুরেরস ইউনিভার্সিটি যৌথভাবে এ গবেষণাটি পরিচালনা করেছে। গবেষকরা স্যাটেলাইট ছবি এবং ওরাংওটানের আগের জনসংখ্যার রেকর্ড বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পেয়েছেন। তবে বনের সব অংশে জরিপ চালানো সম্ভব হয়নি। গবেষকরা বনের পশ্চিমাঞ্চলে একটি জরিপ পরিচালনা করেন, যেখানে এ প্রজাতির সিংহভাগ ওরাংওটান বসবাস করে। তাই গবেষকদের আশঙ্কা, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা হয়তো আরো অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ভয়াবহ দুর্যোগের পেছনে মূল কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে মালাক্কা প্রণালির আশপাশের এলাকায় অতিবৃষ্টির প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। আর এ চরম আবহাওয়া বিরল প্রজাতির এ প্রাইমেট বা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের বাসস্থানকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
বোর্নিও ফিউচার্সের প্রধান গবেষক এরিক মেইজার্ড বলেন, ‘টানা ভারি বর্ষণে পাহাড়ের মাটি অতিরিক্ত নরম হয়ে গিয়েছিল। এর ফলে বনের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। প্রচণ্ড গতিতে নেমে আসা এ ভূমিধস থেকে ওরাংওটানগুলোর বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ ছিল না। এত কম জনসংখ্যার একটি প্রজাতির জন্য এ ক্ষতি সত্যিই বেশ উদ্বেগজনক।’
আরেক গবেষক পানুত হাদিসিসওয়ো বাকি ওরাংওটানগুলোকে বাঁচাতে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি বনের জমি অপব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে শিকার ও চোরাচালান ঠেকাতে পারলে এ বিরল প্রাণীকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।’




