০২/০৭/২০২৬, ১৫:০৩ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    নামাজের আগে ও পরের সুন্নতের ফজিলত

    জেড নিউজ , ঢাকা :

    প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আগে ও পরে কিছু সুন্নত নামাজ রয়েছে। কোনো কোনো নামাজের আগে পড়তে হয় এই সুন্নত। আবার কোনো নামাজের পরে। সুন্নত নামাজগুলোর মধ্যে রয়েছে, ফজরের ফরজ নামাজের আগে দুই রাকাত, জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের ফরজের পর দুই রাকাত এবং এশার ফরজের পর দুই রাকাত— এই ১২ রাকাত নামাজ সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অনেক সহীহ হাদীসে এ নামাজগুলোর গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

    উম্মুল মুমিনীন উম্মে হাবীবা (রা.) বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি দিনে ও রাতে ১২ রাকাত (সুন্নত) নামাজ পড়বে, এর প্রতিদানে জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।

    উম্মে হাবীবা (রা.) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এই নামাজ সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি।

    আমবাসা ইবনে আবু সুফিয়ান রহ. বলেছেন, আমি উম্মে হাবীবা (রা.)-এর কাছে এই নামাজ সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর ওই নামাজগুলো কখনও ছাড়িনি।

    আমর ইবনে আওস রহ. বলেছেন, আমি আমবাসা ইবনে সুফিয়ানের কাছে এই নামাজ সম্পর্কে শোনার পর থেকে আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি।

    নুমান ইবনে সালেম রহ. বলেছেন, আমি আমর ইবনে আওসের কাছ থেকে এ হাদীসটি শোনার পর আর কখনও তা পরিত্যাগ করিনি। (সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭২৮)

    আরও বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, দিন ও রাতে যে ব্যক্তি ১২ রাকাত (সুন্নত) নামাজ পড়বে, জান্নাতে তার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করা হবে। (সেগুলো হল,) জোহরের আগে চার রাকাত, জোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিজি, হাদীস : ৪১৫)

    উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ নিয়মিত আদায় করবে, জান্নাতে তার জন্য আল্লাহ তায়ালা একটি ঘর নির্মাণ করবেন। (তাহল) জোহরের আগে চার রাকাত, জোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের আগে দুই রাকাত। (জামে তিরমিজি, হাদীস ৪১৪; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১১৪০)

    আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) অন্য সকল নফল নামাজের চেয়ে ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করতেন এবং তা নিয়মিত আদায় করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১১৬৯)

    আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, তোমরা (ফজরের) দুই রাকাত (সুন্নত নামাজদ) ছাড়বে না। যদিও তোমাদের পেছনে ঘোড়া (অশ্বারোহী) ধাওয়া করে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৯২৫৩; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৫২)

    আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) জোহরের আগে চার রাকাত নামাজ ও ফজরের আগে দুই রাকাত নামাজ (কখনও) ছাড়তেন না। (সহীহ বুখারী, হাদীস: ১১৮২)

    আরেক হাদিসে আলী (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) জোহরের আগে চার রাকাত ও জোহরের পরে দুই রাকাত নামাজ পড়তেন। (জামে তিরমিজি, হাদীস : ৪২৪)

    উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.) থেকে আরেক হাদিসে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) কখনও জোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত না পড়তে পারলে তা ফরজ ও দুই রাকাত সুন্নত আদায়ের পর পড়ে নিতেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ; ১১৫৮)

    এছাড়া জুমার ফরজ নামাজের আগে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত– এই আট রাকাত নামাজও সুন্নতে মুয়াক্কাদা।

    আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, যে গোসল করে জুমায় আসে, এরপর তাওফিক মতো নামাজ পড়ে, এরপর ইমাম খুতবা শেষ করা পর্যন্ত চুপ থাকে এবং তার সাথে নামাজ পড়ে। তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত ও আরও অতিরিক্ত তিন দিনের (গুনাহ) মাফ করে দেওয়া হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদীস : ৮৫৭)

    আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে জুমা পড়ল, সে যেন জুমার পর চার রাকাত নামাজপড়ে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৮১)

    তাবেয়ী আবু আবদুর রহমান আসসুলামী রহ. বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) আমাদেরকে জুমার আগে চার রাকাত এবং জুমার পরে চার রাকাত নামাজ পড়ার আদেশ করতেন। পরে যখন আলী (রা.) আগমন করলেন, তখন তিনি আমাদেরকে জুমার পরে প্রথমে দুই রাকাত এরপর চার রাকাত নামাজ পড়ার আদেশ করেন। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, হাদিস : ৫৫২৫)

    এই সুন্নত নামাযগুলো সুন্নতে মুয়াক্কাদা। নিয়মিত এগুলো আদায় করতে হবে। বিনা কারণে ছাড়া যাবে না।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়