জেড নিউজ, ঢাকা:
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরে আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা সম্রাট হোসেন বাপ্পা (৪১) মারা গেছেন। তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি এবং ভেলুরচক গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। এই ঘটনায় পুলিশ নিহত ব্যক্তির চাচা বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দকে গ্রেপ্তার করেছে।
শনিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্রাট হোসেন বাপ্পা মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন দুপচাঁচিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজমিলুর রহমান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দ (৬৮) ও তাঁর ছোট ভাই বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আব্দুল করিম তাঁর লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় রফিক আকন্দকে বাঁচাতে তাঁর ছেলে সম্রাট হোসেন বাপ্পা এগিয়ে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন।
ঘটনায় রফিক আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী জোসনা বেগম (৬২) আহত হন। আহত ব্যক্তিদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সম্রাটের অবস্থার অবনতি হলে পরে তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এই ঘটনায় সম্রাটের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় বিএনপি নেতা আব্দুল করিম আকন্দসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা করেন।
এরপর ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আব্দুল করিম আকন্দ ও তাঁর স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওসি তাজমিলুর রহমান বলেন, ‘একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন—একজন বিএনপি, অন্যজন জামায়াত। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে একজন আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।’




