জেড নিউজ ডেস্ক :
মুখে শুধু একটি ব্যান্ডানা, হাতে কোনো বিশেষ সুরক্ষা সরঞ্জাম নয়—খালি হাতেই মৌমাছির চাক থেকে একে একে মৌমাছি তুলে কাঠের বাক্সে ভরে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করেন ৪২ বছর বয়সী ক্লারেন্স চুয়া। কখনো নিজের বাড়ির পেছনের বাগানেও তিনি সেগুলো স্থানান্তর করেন।
চুয়া বলেন, মৌমাছিদের প্রতি আমার ভালো লাগার কারণ হলো, আপনি যদি তাদের সম্মান করেন এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি না হন, তাহলে তারা আপনার খুব কাছাকাছি উপস্থিতিও সহজভাবে মেনে নেয়।
উষ্ণমণ্ডলীয় দেশ সিঙ্গাপুরে বাসাবাড়িতে মৌমাছির চাক দেখা গেলে সাধারণত বাসিন্দারা কীটনাশক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হন। এসব প্রতিষ্ঠান ৮০-১৫০ সিঙ্গাপুর ডলারের বিনিময়ে কয়েক মিনিটের মধ্যেই চাক ধ্বংস করে দেয়। তবে চুয়া ১০০-৫০০ সিঙ্গাপুর ডলার পারিশ্রমিকে মৌমাছি না মেরে নিরাপদে স্থানান্তরের সেবা দিয়ে ক্রমেই মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন।
গত ছয় বছরে তিনি প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১০০টি মৌচাক নিরাপদে স্থানান্তর করেছেন। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০ লাখ মৌমাছি রক্ষা পেয়েছে। এ মানবিক প্রক্রিয়ায় পুরো চাকটি—রানী মৌমাছি, বাচ্চা ও কর্মী মৌমাছিসহ অক্ষত অবস্থায় স্থানান্তর করা হয়।
পরে সেগুলো চুয়া পরিচালিত তিনটি মৌখামারে রাখা হয়, যার একটি তার নিজের বাড়ির পেছনের অংশে অবস্থিত।
চুয়া অদ্ভুত অদ্ভুত সব জায়গা থেকেও মৌমাছি উদ্ধার করেছেন। কখনো কোনো কনডোমিনিয়ামের ‘স্পিরিট হাউজ’ থেকে, আবার কখনো একটি উড়োজাহাজ ইঞ্জিন থেকে। ইঞ্জিনে থাকা মৌমাছির ঝাঁক সরানোর পরই উড়োজাহাজ উড্ডয়নের অনুমতি পায়।
মৌমাছি উদ্ধারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গাপুরের স্থানীয় টাউন কাউন্সিলগুলোও এখন তার সেবা নিচ্ছে। এসব কাউন্সিল দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের আবাসস্থল সরকারি আবাসন এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।
তবে এই কাজ ঝুঁকিমুক্ত নয়। একবার একটি কনডোমিনিয়ামের কার্নিশে থাকা শান্ত স্বভাবের মৌমাছি মনে করে চাক সরাতে গিয়ে তিনি আক্রমণের শিকার হন। নিরাপত্তা হারনেস খুলে সেখান থেকে বের হতে মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে, কিন্তু এর মধ্যেই তাকে প্রায় ১০০ বার হুল ফোটানো হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাটি প্রকৃতিকে কখনোই হালকাভাবে না নেয়ার শিক্ষা দিয়েছে। এখনো তিনি প্রথমে যথাযথ পোশাক ছাড়াই চাকের কাছে যান, তাদের আচরণ পর্যবেক্ষণ করেন। মৌমাছিগুলো উত্তেজিত মনে হলে তবেই সুরক্ষা পোশাক পরেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মৌমাছি সংরক্ষণের পক্ষে সক্রিয় চুয়া। মেটা স্মার্ট গ্লাসে ধারণ করা তার ভিডিওসহ বিভিন্ন কনটেন্ট প্রায় ২০ হাজার অনুসারী অর্জন করেছে।
চুয়ার ভাষায়, মৌমাছি না থাকলে ফলের উৎপাদন অনেক কমে যাবে, কিংবা ফলের দাম অনেক বেড়ে যাবে। পৃথিবীর বিপুল পরিমাণ কৃষি উৎপাদন মৌমাছির পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের নিজেদের টিকে থাকার জন্যও এদের ভূমিকা অপরিসীম।




