জেড নিউজ, ঢাকা:
বঙ্গোপসাগরে ভারতের ওড়িশা উপকূলের কাছে পানামার পতাকাবাহী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি ওশান উইনার ডুবে গেছে। জাহাজটিতে ২৪ জন নাবিক ছিলেন। এর মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকি ২২ জন এখনো নিখোঁজ। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযান চলছে।
জাহাজটির ২৪ নাবিকের মধ্যে ২০ জন চীনের, তিনজন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশি নাবিকটির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২২৫ মিটার দীর্ঘ এমভি ওশান উইনারে প্রায় ৭২ হাজার ১০০ মেট্রিক টন লৌহ আকরিক ছিল। জাহাজটি ২০ আগস্ট রাত ১০টা ৪২ মিনিটে ওড়িশার পারাদ্বীপ বন্দর থেকে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করে।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে শ্রী বিজয়া পুরমের মেরিটাইম রেসকিউ কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এমআরসিসি) জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায়। জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ভিক্টরি স্টার গ্রুপ কো. লিমিটেড কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে নাবিকদের উদ্ধারে সহায়তার অনুরোধ করে।
এরপর সম্ভাব্য অবস্থানে অনুসন্ধান শুরু করে ভারতীয় কোস্টগার্ড। কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজ এমটি আইসোপোসকে উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়। শনিবার রাত ৮টার দিকে ওই জাহাজটি দুটি লাইফ র্যাফট থেকে দুজন নাবিককে জীবিত উদ্ধার করে।
জাহাজটি পারাদ্বীপ উপকূল থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়, যা প্রায় ৪৪৪ কিলোমিটারের সমান। ভারতীয় কোস্টগার্ডের ভারাদ ও আনমোল নামের দুটি জাহাজ অনুসন্ধানে মোতায়েন করা হয়েছে। পরে শ্রী বিজয়া পুরম থেকে বিজিত নামের আরেকটি জাহাজও অভিযানে যুক্ত করা হয়।
জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা থেকে সংকেত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেছে, তা এখনো জানা যায়নি। জাহাজের কোনো বিপৎসংকেত পাঠানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর পাশাপাশি আশপাশে থাকা অন্য জাহাজগুলোকেও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। নিখোঁজ ২২ নাবিককে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জাহাজটি কেন ডুবে গেল এবং নিখোঁজ নাবিকদের সর্বশেষ অবস্থান কোথায় ছিল—এসব বিষয়ে উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।





