আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। একইসাথে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্ষক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বাংলায় দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বলেন। বলেন, অভ্যুত্থানে তরুণসমাজ স্বৈরাচারকে পরাভূত করেছিল। সেই বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায় বিচারভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের আকাঙ্ক্ষা পূরণের দায়িত্ব তাকে ও তার সহকর্মীদের দেয়া হয় বলে জানান। উল্লেখ করেন, ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনর্গঠন করে জনকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য প্রয়োজন ছিল ব্যাপক প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। এজন্য সহজ পথ ছিল নির্বাহী আদেশে সংস্কার করা। কিন্তু তিনি বেছে নিয়েছেন কঠিন পথ—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই পথ বলে জানান।
গত ১৫ বছরে দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি ডলার অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করা হয়েছে বলে ভাষণে উল্লেখ করেন। ওই অর্থ ফিরিয়ে দিতে পাচারকৃত সম্পদ সংরক্ষণকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
ভাষণে সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে পড়া বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য জোর দাবি জানান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ায় পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি। এসময় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা সার্কের পুনরুজ্জীবনের জোরালো আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টার ভাষণে উঠে আসে তার সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গ। বলেন, অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও মেয়েরা সর্বত্র সাফল্য অর্জন করছে: শ্রেণিকক্ষ থেকে বোর্ডরুমে, গবেষণাগার থেকে খেলার মাঠে বলে জানান। সবশেষ মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে , বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনভেনশনে বাংলাদেশ যোগ দিয়েছে বলে জানান।
জেড নিউজ ,ঢাকা।


