জেড নিউজ স্পোর্টস:
কোনো অঘটন নয়, দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাঠে হারানোর নেপথ্যে বাংলাদেশ দলের উইন্ডিজ কোচ ফিল সিমন্স। তার ৬ শব্দের এক মন্ত্রে বদলে দিয়েছে টাইগারদের।
ফিল সিমন্স বেশি কথা বলেন না। আবেগও দেখান না। কিন্তু তার ছয় শব্দ বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে নামার আগে নাজমুল হোসেন শান্তদের তিনি বলেছিলেন, “ম্যাচের প্রতিটা সেশনেই ওদের হারাতে হবে।” পরিকল্পনা করেই অস্ট্রেলিয়াকে ডারউইনে হারিয়েছে বাংলাদেশ।
কোচের কথা রেখেছেন শান্তরা। চার দিনই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়েছেন তারা। ১২টি সেশনই জিতে নিয়েছেন। একেই তো বলে ‘টোটাল’ ক্রিকেট। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং— তিন বিভাগেই দাপট দেখিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুটা হয়েছিল হাসান মাহমুদকে দিয়ে। প্রথম দিন ৬ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান তিনি।
দ্বিতীয় দিন তানজিদ হাসান তামিমের দুর্দান্ত ব্যাটিং। পূর্ণ শক্তির অসি আক্রমণের বিরুদ্ধে শতরান করেন তিনি। তৃতীয় দিন নিজেদের লিড অনেকটা বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে দাপট দেখান বাংলাদেশের স্পিনারেরা। চতুর্থ ইনিংস তো নিয়মরক্ষার ছিল।
তবে তার কৃতিত্ব প্রাপ্য ডারউইনের পিচ প্রস্তুতকারক জেক পাভলিচের। তিনি এমন উইকেট বানিয়েছিলেন, যেখানে অ্যাওয়ে দলও সুবিধা পেয়েছে। তা কাজে লাগাতে পেরেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ যোগ্য দল হিসেবেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে। চার দিনের খেলায় এক বারও এগিয়ে যেতে পারেনি স্বাগতিকরা। তাই এই জয় অঘটন নয়।
ভারত ও পাকিস্তানের পর এশিয়ার তৃতীয় দেশ হিসাবে অস্ট্রেলিয়াকে তাদের ঘরের মাটিতে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বিশ্বের দ্বিতীয় দ্রুততম দল হিসাবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে জিতেছে টাইগাররা।
নিজেদের প্রমাণ করার তাগিদই জিতিয়েছে বাংলাদেশকে। তাদের ছোট করে দেখেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেই কারণেই হয়তো মেলবোর্ন, সিডনি, পার্থ বা ব্রিসবেনে নয়, টেস্ট রাখা হয়েছিল ডারউইনে। মাত্র পাঁচ হাজার দর্শক এখানে খেলা দেখতে পারেন। এই প্রথম পুরুষদের কোনও টেস্ট সেখানে হয়েছে।





