হাজারো খবরের ভিড়ে কখনো কখনো একটি ছোট্ট খবরও আপনাকে আবেগাপ্লুত করতে পারে। জাগিয়ে তুলতে পারে আপনার ঘুমন্ত বিবেক। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি ঢাকাগামী একটি লঞ্চে। ভোলা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে এমভি দোয়েল পাখি-১০ লঞ্চটিতে একদিনের নবজাতককে নিয়ে ঢাকায় আসছিলেন এক দম্পতি। অসুস্থ্য বাচ্চাটি সিলিন্ডারের সাহায্যে নিঃশ্বাস নিচ্ছে। পাশে তার উৎকণ্ঠিত বাবা-মা। ঢাকায় নেমেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নেওয়া হবে হাসপাতালে। কিন্তু বিধি বাম।
লঞ্চটি মুন্সীগঞ্জ আসলে সিলিন্ডারের অক্সিজেন ফুরিয়ে যায়। নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয় শিশুটির। এই ঘটনা মুহূর্তেই শত যাত্রীকে উদ্বেগে ফেলে দেয়। এই অবস্থায় জরুরি হেল্প লাইন ৯৯৯-এ ফোন করেন শিশুটির কোনো এক স্বজন।
এরপরে যা ঘটলো তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। কয়েক মিনিটের মধ্যে নদীর বুক চিরে ছুটে আসে একটি স্পিডবোট—সাথে নতুন অক্সিজেন সিলিন্ডার, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, আর দুইজন প্রশিক্ষিত সদস্য। তারা লঞ্চে উঠে নবজাতকের পাশে দাঁড়ায়, শ্বাসের প্রতিটি ওঠানামা মনিটর করে, যেন শিশুটি এক মুহূর্তও একা না থাকে।
লঞ্চ পৌঁছায় সদরঘাটে। আগে থেকেই সেখানে অপেক্ষা করছিলো কোস্ট গার্ডের অ্যাম্বুলেন্স। এক মুহূর্ত দেরি না করে নবজাতককে নিয়ে ছুটে যায় হাসপাতালে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ন্যাশনাল ইমারজেন্সি হেল্পলাইনের প্রানান্ত চেষ্টা আর পরম করুনাময়ের অশেষ কৃপায় সে যাত্রায় বেঁচে যায় শিশুটি।
এই ঘটনা ফেসবুকে বেশ ভাইরাল হয়েছে। নেটিজেনরা সরকারি এই তৎপরতায় মুগ্ধ। কৃতজ্ঞতার অজস্র শব্দ মালায় ছেয়ে যাচ্ছে ফেসবুক। বাংলাদেশের প্রতিটি যায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক এমন মানবিকতা। রাষ্ট্রের উদ্যোগে কৃতজ্ঞ থাকুক সাধারণ মানুষ।
জেড নিউজ, ঢাকা।



