spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

সঙ্গী খুঁজতে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দেয় আফ্রিকান বন্য কুকুর

জেড নিউজ, ডেস্ক :

সঙ্গী খুঁজতে মহাদেশজুড়ে চার হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে আফ্রিকান বন্য কুকুর। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, তিন সহোদর বন্য কুকুরের আট মাসে ৪ হাজার ১২৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে সঙ্গীর খোঁজে।

আফ্রিকার কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে এটি এখন পর্যন্ত নথিভুক্ত সবচেয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়া।

গবেষণাটি ইকোলগ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। এ গবেষণায় জাম্বিয়ায় মানববসতিপূর্ণ এলাকায় কয়েক হাজার কিলোমিটার চলাচল করা বন্য কুকুরের কয়েকটি দলকে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তারা প্রতিবেশী পাঁচটি দেশের মধ্যে প্রবেশ করেছে কিংবা দেশগুলোর কাছাকাছি পর্যন্ত গেছে।

চারটি পৃথক দল মিলিয়ে মোট ৯ হাজার ৮৬৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে কুকুরগুলো। এ দূরত্ব যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্থের দ্বিগুণেরও বেশি।

গবেষণাটির প্রধান লেখক ও মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক স্কট ক্রিল বলেন, ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বন্য কুকুর নিয়ে গবেষণা করছেন। তবে ২০২৬ সালে এসে আফ্রিকার পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ বন্য কুকুরের জনগোষ্ঠী এখনো পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকতে পারে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাবেন বলে তিনি কল্পনাও করেননি।

আফ্রিকান বন্য কুকুর কঠোর শ্রেণিবিন্যাস মেনে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে। সাধারণত একটি দলের শুধু প্রভাবশালী জোড়াই প্রজনন করে। ফলে অধস্তন সদস্যদের, বিশেষ করে দুই ও তিন বছর বয়সী প্রাণীদের, সঙ্গী খুঁজতে এবং নতুন এলাকা গড়ে তুলতে দল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে হয়।

গবেষণায় বলা হয়েছে, অধস্তন প্রাণীরা হয় প্রভাবশালী হওয়ার অপেক্ষায় থেকে আত্মীয়দের সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের জিনগত সাফল্যে অবদান রাখে, অথবা দ্রুত প্রজননের সুযোগের সন্ধানে দল ছেড়ে বেরিয়ে যায়।

তবে এ দীর্ঘ যাত্রা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বুশমিট শিকারের জন্য পাতা তারের ফাঁদে পড়ে অনেক বন্য কুকুর মারা গেছে। একটি স্ত্রী বন্য কুকুর, যার নাম এডব্লিউডি-১৩৫৫, জাম্বিয়া থেকে মোজাম্বিক পর্যন্ত ২ হাজার ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার পর ২০২২ সালের জুনে একটি ফাঁদে পড়ে মারা যায়।

জাম্বিয়ান কার্নিভোর প্রোগ্রাম জিপিএস কলারের মাধ্যমে প্রাণীগুলোর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় তারা নদী ও বড় সড়ক বারবার পার হয়েছে, গ্রেট রিফট ভ্যালির খাড়া ভূপ্রকৃতি অতিক্রম করেছে এবং শহর ও হ্রদের পাশ দিয়ে চলাচল করেছে।

প্রোগ্রামটির প্রধান নির্বাহী ম্যাট বেকার বলেন, বন্য কুকুরগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে যে তাদের মধ্যে সংযোগ এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এ সংযোগ রক্ষা ও শক্তিশালী করতে আরো উদ্যোগ প্রয়োজন।

জাম্বিয়ায় ২০১০ সালের পর থেকে মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে। দেশটির প্রায় ৪০ শতাংশ এলাকা সংরক্ষিত অঞ্চলের আওতায় থাকলেও এসব এলাকা রক্ষায় অর্থায়ন অত্যন্ত সীমিত।

আফ্রিকান বন্য কুকুর বর্তমানে বিপন্ন প্রজাতি হিসেবে তালিকাভুক্ত। মহাদেশজুড়ে ৩৯টি পৃথক এলাকায় পূর্ণবয়স্ক বন্য কুকুরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার ৬০০। আবাসস্থল নষ্ট হওয়া, শিকারের প্রাণীর সংখ্যা কমে যাওয়া, ফাঁদ, রোগ এবং মানুষের সঙ্গে সংঘাত—এসব কারণে তারা হুমকির মুখে রয়েছে।

গবেষণাটি বলছে, বন্য কুকুরের চলাচলের করিডরগুলো রক্ষা করা গেলে পুরো আফ্রিকা মহাদেশজুড়ে প্রাণীটির সংরক্ষণ কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়