spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

প্রথম জন্মবার্ষিকীতে ভালোবাসার হাজার হাজার বার্তা পেল ওরাংওটাং আঁকড়ে থাকা ‘পাঞ্চ’

জেড নিউজ ডেস্ক :

পাঞ্চ এখন আর পুতুল আঁকড়ে থাকা সেই ছোট্ট ছানাটি নেই। অন্য প্রায় ৫০টি বানরের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাকে এখন আলাদা করাও কঠিন। তবুও তাকে দেখতে প্রচুর ভিড় জমছে

খেলনা ওরাংওটাংকে আঁকড়ে ধরে কোটি মানুষের হৃদয় জয় করা অনাথ বানরছানা ‘পাঞ্চ’ আজ প্রথম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের কাছ থেকে আসা শুভেচ্ছাবার্তার বন্যায় ভাসছে সে। যদিও এখন পাঞ্চ আর একা নয়, অন্য বানরদের বন্ধু বানিয়ে খেলাধুলায় মেতে থাকে।

জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় এক বছর আগে জন্ম নেয়া পাঞ্চকে তার মা প্রসবজনিত ক্লান্তি থেকে পরিত্যাগ করেছিল। পরে চিড়িয়াখানার কর্মীরা তাকে বাঁচিয়ে রাখতে সেবা-শুশ্রূষা শুরু করেন। এ সময় তারা গ্রিপিং বা আঁকড়ে ধরার দক্ষতা বাড়াতে পাঞ্চের হাতে একটি খেলনা ওরাংওটাং তুলে দেন। এটি নবজাতক ম্যাকাক বানরদের বেঁচে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

পাঞ্চ এখন আর পুতুল আঁকড়ে থাকা সেই ছোট্ট ছানাটি নেই। অন্য প্রায় ৫০টি বানরের সঙ্গে মিশে যাওয়ায় তাকে এখন আলাদা করাও কঠিন। তবুও তাকে দেখতে প্রচুর ভিড় জমছে।

ইচিকাওয়া সিটি জুওলজিক্যাল অ্যান্ড বোটানিক্যাল গার্ডেনের ‘মাংকি মাউন্টেন’-এ এক বছর পূর্ণ করা বানরছানা পাঞ্চ। ছবি: চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ

চিড়িয়াখানার প্রধান তাকাশি ইয়াসুনাগা জানান, দেশে-বিদেশ থেকে প্রায় আড়াই হাজার জন্মদিনের কার্ড পেয়েছে পাঞ্চ। এছাড়া বিশেষ প্রদর্শনী কক্ষে ভিডিওর মাধ্যমে তার জীবনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সব মুহূর্ত দর্শনার্থীদের দেখানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, মাত্র ছয় মাস বয়সে ৫০টি বানরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ শুরু হয় পাঞ্চের। প্রথমদিকে অন্য বানররা তাড়িয়ে দিলে সে দৌড়ে এসে তার খেলনাটিকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা খুঁজত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়লে সে রাতারাতি তারকা বনে যায়।

তবে এখনো পাঞ্চের জনপ্রিয়তা কমেনি। চিড়িয়াখানার প্রধান তাকাশি ইয়াসুনাগা বলেন, পাঞ্চ তখন প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করেছে। ছেলেবেলায় তার দুই পরিচর্যাকারী সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন তাকে সুস্থ করে তুলতে। সেই স্মৃতি এখনো সবার মনে গেঁথে আছে।

পাঞ্চের ভক্ত কুমি ইশিজাওয়া জানান, অসুস্থ অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঞ্চের খবর পান তিনি। এর পর থেকে সুস্থ হয়ে বানর ছানাটিকে দেখার স্বপ্ন দেখতেন। অবশেষে এবার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে তার।

আরেক ভক্ত ইয়েয়ে লাইটস জানান, মেয়ের কাছ থেকে পাঞ্চের কথা শুনেছিলেন তিনি। এখন চিড়িয়াখানায় নিয়মিত দর্শনার্থী হয়ে গেছেন। জন্মদিন উপলক্ষে তিনি কেক নিয়ে এসেছেন এবং পাঞ্চের দুই পরিচর্যাকারীকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়