জেড নিউজ , ঢাকা :
মানুষের জীবনে আল্লাহর রহমত, বরকত ও ক্ষমা লাভের অন্যতম উপায় হলো ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা। ফেরেশতারা হলেন আল্লাহর নুর থেকে সৃষ্ট এমন সম্মানিত বান্দা, যারা সর্বদা আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকেন এবং তাঁর নির্দেশের বাইরে কোনো কাজ করেন না।
তারা মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন, রহমতের দোয়া করেন এবং নেক আমলের সাক্ষী হন। কোরআন ও সহিহ হাদিসে এমন বহু আমলের কথা বর্ণিত হয়েছে, যেগুলো করলে ফেরেশতারা বান্দার জন্য দোয়া করেন।
ফেরেশতাদের দোয়া লাভের সেরা ১০ উপায়
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের প্রতি অপরিসীম দয়াশীল। তিনি এমন কিছু নেক আমলের ব্যবস্থা রেখেছেন, যেগুলোর মাধ্যমে ফেরেশতারা মুমিনদের জন্য দোয়া ও ইস্তিগফার করেন।
এসব আমল কেবল আখিরাতের পুঁজি নয়; বরং দুনিয়ার জীবনেও প্রশান্তি, বরকত ও কল্যাণের উৎস।
১. ঈমান ও তওবার ওপর অবিচল থাকা
মুমিনদের জন্য ফেরেশতাদের দোয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো ঈমান ও আন্তরিক তওবা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আরশ বহন করে এবং যারা এর চারপাশে রয়েছে, তারা তাদের রবের প্রশংসাসহ তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে, তাঁর ওপর ঈমান আনে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা বলে, ‘হে আমাদের রব! আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে।
অতএব যারা তওবা করেছে এবং আপনার পথ অনুসরণ করেছে, তাদের ক্ষমা করুন এবং তাদের জাহান্নামের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৭)
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, আন্তরিক তওবাকারী ও আল্লাহর পথে অবিচল বান্দাদের জন্য ফেরেশতারা নিয়মিত দোয়া করেন।
২. নামাজের অপেক্ষায় অজু অবস্থায় বসে থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যতক্ষণ তার নামাজের স্থানে বসে থাকে এবং তার অজু নষ্ট না হয়, ততক্ষণ ফেরেশতারা তার জন্য দোয়া করতে থাকেন—‘হে আল্লাহ! তাকে ক্ষমা করুন, তার প্রতি দয়া করুন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৪৫)
এ কারণে ফরজ নামাজের আগে-পরে কিছু সময় মসজিদে বসে জিকির-আজকার করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
৩. প্রথম কাতারে নামাজ আদায় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা প্রথম কাতারের মুসল্লিদের ওপর রহমত বর্ষণ করেন।
তাই প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর আগ্রহ মুমিনের ঈমান ও আল্লাহপ্রেমের পরিচায়ক।
৪. অসুস্থ মুসলিমকে দেখতে যাওয়া
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অসুস্থ মুসলিম ভাইকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া করতে থাকে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৯৬৯)
তাই অসুস্থকে দেখতে যাওয়া শুধু মানবিক কর্তব্য নয়; এটি ফেরেশতাদের দোয়া লাভেরও একটি মাধ্যম।
৫. মুসলিম ভাইয়ের জন্য অগোচরে দোয়া করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিম যখন তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দোয়া করে, তখন একজন নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হোক।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭৩২)
এজন্য অন্যের কল্যাণ কামনা করলে নিজের জন্যও একই কল্যাণের দোয়া লাভ হয়।
৬. রোজাদারকে ইফতার করানো
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৮০৭)
অন্য হাদিসে এসেছে, রোজাদারের জন্য ফেরেশতারা দোয়া করেন। তাই ইফতার করানোও রহমত লাভের উত্তম মাধ্যম।
৭. ইলম শিক্ষা ও শিক্ষা দানে নিয়োজিত থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘জ্ঞান অন্বেষণকারীর প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ফেরেশতারা তাদের ডানা বিছিয়ে দেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস: ৩৬৪১)
তাই ইসলামের জ্ঞান অর্জন ও প্রচার করা ফেরেশতাদের সন্তুষ্টি লাভের অন্যতম পথ।
৮. মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দুজন ফেরেশতা অবতরণ করেন। একজন বলেন, ‘হে আল্লাহ! যে দান করে তাকে আরো দান করুন।’ অন্যজন বলেন, ‘যে কৃপণতা করে তার সম্পদ ধ্বংস করে দিন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৪৪২)
এ হাদিস দানশীলতার মর্যাদা ও ফেরেশতাদের দোয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট করে।
৯. মহানবী (সা.)-এর ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমার ওপর একবার দরুদ পাঠ করে, আল্লাহ তার ওপর দশটি রহমত নাজিল করেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৪০৮)
তাই দরুদ পাঠ মুমিনের জন্য ফেরেশতাদের দোয়া লাভের অন্যতম বিশেষ উপায়।
১০. সর্বদা পবিত্র ও অজু অবস্থায় থাকা
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় (অজুসহ) রাত কাটায়, একজন ফেরেশতা তার সঙ্গে রাত যাপন করেন। সে যখন জাগে, ফেরেশতা বলে, ‘হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন, কারণ সে পবিত্র অবস্থায় রাত কাটিয়েছে।’ (ইবনে হিব্বান, আল-মুজামুল কাবির)
সুতরাং ফেরেশতাদের দোয়া লাভ করা কোনো অলৌকিক বিষয় নয়; বরং এটি নেক আমলের স্বাভাবিক প্রতিদান। আর ফেরেশতাদের দোয়া এমন এক অমূল্য নেয়ামত, যা একজন মুমিনের জীবনকে আলোকিত করে এবং আখিরাতের সফলতার পথ সুগম করে। পৃথিবীর কোনো মানুষের দোয়ার চেয়েও ফেরেশতাদের দোয়া অধিক পবিত্র ও বরকতময়, কারণ তারা নিষ্পাপ এবং সর্বদা আল্লাহর আনুগত্যে নিয়োজিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এমন জীবন গড়ার তাওফিক দান করুন, যাতে আমরা দুনিয়ায় তাঁর রহমত এবং আখিরাতে জান্নাত লাভের সৌভাগ্য অর্জন করতে পারি। আমিন।





