spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

‘মিমি’র শুটিং চলাকালেই ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন কৃতি

জেড নিউজ ডেস্ক :

বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন প্রথমবারের মতো নিজের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। জাতীয় পুরস্কারজয়ী সিনেমা ‘মিমি’র শুটিং চলাকালেই তিনি ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা ভেবেই সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং এখনো সেটিকে নিজের জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।

সম্প্রতি ‘হিউম্যানস অব বম্বে’ পডকাস্টে কৃতি জানান, এত দিন বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। তবে এখন মনে করছেন, এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।

অভিনেত্রীর কথায়, “এই বিষয়টি আমি প্রথমবার বলছি।

আমি আমার ডিম্বাণু সংরক্ষণ করেছিলাম। খুব পরিকল্পনা করেই সেটা করেছিলাম, কারণ তখন ‘মিমি’র জন্য আমাকে ওজন বাড়াতে হচ্ছিল। এই চিকিৎসার ফলে শরীর কিছুটা ফুলে যায়, আর ছবির জন্য এমনিতেই আমার ওজন বাড়ছিল। তাই মনে হয়েছিল এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।

কৃতি জানান, ‘মিমি’র শুটিংয়ের মাঝে প্রায় দুই মাসের বিরতি ছিল। ওই সময় অন্য কোনো সিনেমার কাজ না থাকায় অস্ত্রোপচার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সম্পন্ন করার এটিই ছিল সবচেয়ে সুবিধাজনক সময়। এ ছাড়া তার পরিচিত একজন ভবিষ্যতের কথা ভেবে ডিম্বাণু সংরক্ষণের পরামর্শ দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নিতে তাকে অনুপ্রাণিত করে।

তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। চিকিৎসার অংশ হিসেবে নেওয়া হরমোন ইনজেকশনের কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল তাকে।

কৃতি বলেন, ‘মনে হচ্ছিল যেন গর্ভাবস্থার মতো অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। মেজাজের ওঠানামা হচ্ছিল, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু আজ আমি খুশি যে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। ভবিষ্যতে অন্তত এই বিষয়টি নিয়ে আর আলাদা করে চিন্তা করতে হয় না।’

অভিনেত্রী আরো জানান, ডিম্বাণু সংরক্ষণের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ২৯ বছর।

ভারতে ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় সাধারণত দেড় থেকে দুই লাখ রুপি পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, হরমোন থেরাপি এবং ডিম্বাণু সংগ্রহের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া সংরক্ষিত ডিম্বাণু ফার্টিলিটি সেন্টারে রাখার জন্য প্রতিবছর আলাদা ফি দিতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, সাধারণভাবে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সের মধ্যে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে সফল গর্ভধারণের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। তবে এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও চিকিৎসাবিষয়ক সিদ্ধান্ত। তাই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়