জেড নিউজ ডেস্ক :
নদী মানেই বিশাল জলরাশি— এমন ধারণা ভেঙে দিয়েছে চীনের একটি ক্ষুদ্র জলধারা। চীনের উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলে অবস্থিত হুয়ালাই নদী বিশ্বের সরুতম নদী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। গড়ে মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার প্রশস্ত এই নদী এতটাই সরু যে একটি ছোট শিশুও অনায়াসে লাফ দিয়ে পার হতে পারে। তবে আকারে ক্ষুদ্র হলেও এই নদীর বয়স ও ইতিহাস বিস্ময়কর— অন্তত ১০ হাজার বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে বয়ে চলেছে এই জলধারা।
আমাজনের মতো বড় নদী শুষ্ক মৌসুমে ৬ মাইল এবং বর্ষায় ২৪ মাইল পর্যন্ত চওড়া হয়। সেখানে হুয়ালাইয়ের সবচেয়ে সরু অংশটি মাত্র ৪ সেন্টিমিটার প্রশস্ত। তবে দৈর্ঘ্যে এটি ১৭ কিলোমিটার এবং গভীরতায় গড়ে ৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এত সরু হওয়া সত্ত্বেও হুয়ালাইকে নদী হিসেবে গণ্য করার পেছনে রয়েছে ভূতাত্ত্বিক যুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী হওয়ার জন্য আকার নয়, প্রবাহের ধারাবাহিকতা ও কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যই আসল মানদণ্ড। হুয়ালাইয়ের নিজস্ব উপত্যকা ও প্লাবনভূমি রয়েছে এবং সারা বছরই এতে স্রোত থাকে। উৎস থেকে এখন পর্যন্ত এর প্রবাহ কখনো বাধাগ্রস্ত হয়নি, নদী শুকিয়েও যায়নি।
নদীটির উৎস এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। ধারণা করা হয়, একটি ভূগর্ভস্থ প্রস্রবণ থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি হেক্সিগট্যান গ্রাসল্যান্ড নেচার রিজার্ভের দালাই নুর হ্রদে গিয়ে মিশেছে। নদীর পানি একদম স্বচ্ছ এবং আশপাশের জমিতে সেচের কাজে ব্যবহৃত হয়। বন্যপ্রাণীরাও এই নদী থেকে পানি পান করতে আসে।
স্থানীয়ভাবে এই নদী ‘বুক ব্রিজ রিভার’ বা ‘বই সেতুর নদী’ নামেও পরিচিত। এই নামের পেছনে একটি লোককথা প্রচলিত রয়েছে। বলা হয়, বহু আগে এক শিশু নদী পার হওয়ার সময় সবচেয়ে সরু স্থানে তার বইটি ফেলে দেয়। সেই বই নদীর দুই কূলের মধ্যে সেতুর মতো আটকে যায় এবং একদল পিঁপড়া তার ওপর দিয়ে নদী পার হয়। এই গল্প থেকেই নামটির উৎপত্তি।
হাজার বছর ধরে এই ক্ষুদ্র জলধারা কীভাবে তার অস্তিত্ব অক্ষুণ্ণ রেখেছে, তা দেখতে প্রতি বছর বহু পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমী ছুটে আসেন চীনে। প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে টিকে থাকা হুয়ালাই নদী আজ প্রকৃতির এক অসাধারণ বিস্ময়।



