জেড নিউজ, ঢাকা:
রঙিন ক্যান্ডি, কেক কিংবা বোতলজাত পানীয়—যে খাবারগুলো শিশুদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে, সেগুলো নিয়েই বাড়ছে নতুন উদ্বেগ। খাদ্যে ক্ষতিকর কৃত্রিম রং ও রাসায়নিক ব্যবহারের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে, এবার অভিভাবকদের সতর্ক করেছে খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে বিক্রি হওয়া নানা খাবার আরো আকর্ষণীয় দেখাতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষতিকর রং ও রাসায়নিক।
বিশেষ করে শিশুদের জন্য তৈরি খাবারে এসব উপাদানের ব্যবহার বেশি দেখা যাচ্ছে। ক্যান্ডি, লজেন্স, চিউইং গাম, গামি ক্যান্ডি, কেক, বিস্কুট, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, টমেটো কেচাপ, এনার্জি ড্রিংক, প্যাকেটজাত জুস এমনকি ফ্লেভারযুক্ত দইয়েও কৃত্রিম রং মেশানোর অভিযোগ উঠেছে।
খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো ‘রোডামাইন-বি’ নামের একটি রাসায়নিক।
আগে হাওয়াই মিঠাইয়ে এই উপাদান পাওয়া যাওয়ার পর সেটি নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, এখনো বিভিন্ন ক্যান্ডি ও কেক তৈরিতে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন এই রাসায়নিক শরীরে গেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
এছাড়া ‘রেড-৩’ নামে আরেকটি কৃত্রিম রং খাবারকে উজ্জ্বল লাল রং দিতে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে কেক ও ক্যান্ডিতে এর ব্যবহার বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিন্সট্রেশন’ (এফডিএ) এই রং ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কারণ গবেষণায় এতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, ‘টারট্রাজিন’ ও ‘সানসেট ইয়েলো’ নামের আরো দুটি রং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পানীয়তে ব্যবহার করা হয়। এগুলো থাইরয়েডের সমস্যা, লিভারের রোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
‘মেটানিল ইয়েলো’ নামের আরেক ধরনের রং মিষ্টি ও ঝাল প্যাকেটজাত খাবারে মেশানো হয়। এটিও শরীরের জন্য ক্ষতিকর বলে জানিয়েছে খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসব কৃত্রিম রং শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ‘অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিসঅর্ডার’ বা এডিএইচডি সমস্যার সঙ্গে কৃত্রিম রঙের সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এই সমস্যায় শিশুরা অতিরিক্ত চঞ্চল হয়ে পড়ে, মনোযোগ কমে যায় এবং আচরণগত পরিবর্তন দেখা দেয়।
অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া, সহজে কিছু ভুলে যাওয়া বা অস্বাভাবিক রাগ ও হিংসাত্মক আচরণও দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রাসায়নিক মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং শরীরে ডোপামিন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এ কারণে শিশুদের খাবার কেনার সময় রং ও উপাদান সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



