জেড নিউজ ডেস্ক :
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের মধ্যে বিশ্বাস গড়ে উঠেছে—পূর্ণিমার চাঁদ তাদের আচরণ, মেজাজ এমনকি মানসিক অবস্থাকেও প্রভাবিত করে। এ ধারণার জন্ম প্রায় দুই হাজার বছর আগে গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল ও রোমান ইতিহাসবিদ প্লিনি দ্য এল্ডারের সময়কালে। তারা মনে করতেন, চাঁদ মানুষের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করতে পারে। এমনকি ইংরেজি শব্দ ‘লুনাটিক’ এসেছে ল্যাটিন শব্দ লুনাটিক্যাস থেকে, যার অর্থ ‘চাঁদের প্রভাবে উন্মাদ’ বা ‘মুনস্ট্রাক’।
তবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষ চাঁদকে নানা রহস্যময় ঘটনার জন্য দায়ী করলেও আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা বলছে—এ সম্পর্ক আসলে কাকতালীয়। প্রাচীন ধারণা অনুযায়ী, মানুষের মস্তিষ্ক আর্দ্র বা জলীয় হওয়ায় চাঁদের প্রভাব সমুদ্রের মতোই মানুষের ওপর পড়তে পারে। পরবর্তীতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আর্নল্ড লিবারসহ কিছু গবেষক ধারণা দেন, যেহেতু মানবদেহের বড় অংশ পানি, তাই জোয়ার-ভাটার মতো মানুষও চাঁদের প্রভাব অনুভব করতে পারে।
কিন্তু বিশেষজ্ঞরা দ্রুতই এ তত্ত্বকে খারিজ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, চাঁদের মহাকর্ষীয় প্রভাব পৃথিবীর তুলনায় এতই কম যে এটি মানুষের শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। জ্যোতির্বিজ্ঞানী, পদার্থবিদ ও মনোবিজ্ঞানীরা প্রায় একই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন— পূর্ণিমার সঙ্গে মানুষের আচরণের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৮৫ সালে ৩৭টি গবেষণার একটি বিশ্লেষণেও পূর্ণিমা ও অপরাধ, আত্মহত্যা বা মানসিক সমস্যার মধ্যে কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞান চাঁদ ঘিরে অনেক মিথ ভেঙে দিলেও লোককথা, কুসংস্কার ও সংস্কৃতির প্রভাব এখনো মানুষের বিশ্বাসে রয়ে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন আদিবাসী সংস্কৃতিতে চাঁদ সময় গণনা, প্রকৃতির ছন্দ বোঝা ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। তাই প্রতিটি পূর্ণিমার আলাদা নামও রয়েছে।



