১৬/০৪/২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে,কমেছে চীনের

    জেড নিউজ:
    যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে তৈরি পোশাক রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশেরও বেশি বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে।

    স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের ভাষ্য, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হওয়ার আগেই মার্কিন ক্রেতারা আগেভাগে বড় অঙ্কের পণ্য আমদানি করেন। ফলে বছরের শুরুতেই রপ্তানি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যায়।

    গত বছরের এপ্রিলের একটি অংশ থেকে পুরো জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ১০ শতাংশের একটি সাময়িক ন্যূনতম শুল্ক আরোপ করেছিল।

    এটি আগে থেকেই কার্যকর প্রায় ১৬ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে মোট শুল্কহারকে প্রায় ২৬ শতাংশে নিয়ে যায়। এরপর গত বছর ৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র দেশগুলোর ওপর আরও বেশি হারে শুল্ক কার্যকর করে। তার আগের সময়টিতে মার্কিন ক্রেতারা সম্ভাব্য উচ্চ শুল্কের ঝুঁকি এড়াতে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি পণ্য আমদানি করেন।

    রপ্তানিকারকরা জানান, এই আগাম চালানের প্রভাবেই জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে রপ্তানির পরিসংখ্যান স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি দেখাচ্ছে। তবে বছরের শেষ ভাগের প্রকৃত চিত্র এতে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।

    বাংলাদেশের জন্য শুরুতে গত বছরের এপ্রিলে ৩৫ শতাংশের কঠোর পারস্পরিক শুল্ক ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর তা সংশোধন করে ২০ শতাংশে নামানো হয়।

    এই প্রবৃদ্ধি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার প্রায় স্থবির ছিল। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন সংস্থা অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি বছরওয়ারি ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কমে ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

    তবে বাংলাদেশের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশ কয়েকটি প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।

    ভিয়েতনামের রপ্তানি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ভারতের রপ্তানি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। পাকিস্তানের রপ্তানি ১২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ২ দশমিক শূন্য ২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি ১০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার এবং কম্বোডিয়ার রপ্তানি ২৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

    চীন ছিল ব্যতিক্রম। যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রপ্তানি এই সময়ে ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৯ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

    ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

    বাংলাদেশের পোশাকের ইউনিট দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ। ভিয়েতনামের ক্ষেত্রে এটি শূন্য দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং চীনের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ কমেছে। কম্বোডিয়ার দাম কমেছে ৭ দশমিক ২৬ শতাংশ, পাকিস্তানের ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭২ শতাংশ।

    ভারতের ক্ষেত্রে চিত্রটা ভিন্ন। জানুয়ারি-অক্টোবর সময়ে দেশটির পোশাকের ইউনিট দাম ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়েছে।

    রপ্তানিকারকরা জানান, বছরের শুরুতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগস্টের পর থেকে গতি কমতে শুরু করে। উচ্চ শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে চালান দুর্বল হয়ে পড়ে।

    বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, জানুয়ারি-অক্টোবরের পরিসংখ্যান পুরো বছরের প্রকৃত প্রবণতা পুরোপুরি তুলে ধরছে না।

    তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে বছরের শুরুর দিকের মাসগুলোতে, যখন শুল্ক কার্যকরের আগেই দ্রুত চালান পাঠানো হয়েছিল। আগস্টের পর থেকে রপ্তানির গতি স্পষ্টভাবেই মন্থর।

    তবে তিনি আশাবাদী যে, আগামী মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। রাজনৈতিক উত্তাপ কমলে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও পূর্ণাঙ্গ অর্ডার দিতে আগ্রহী হবেন।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা বিক্রি নভেম্বরে বছরওয়ারি ভিত্তিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে। ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন (এনআরএফ) জানিয়েছে, ছুটির মৌসুমের শুরুতেই ভালো বিক্রির কারণে ২০২৫ সালের ব্যয়সংক্রান্ত পূর্বাভাস পূরণের পথে রয়েছে বাজার।

    এর ফলে বাজারে থাকা পোশাকপণ্যের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন ক্রেতাদের উৎসাহিত করতে পারে।

    এনআরএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যাথিউ শে বলেন, নভেম্বরে খুচরা বিক্রিতে বছরওয়ারি ভিত্তিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যদিও মাসওয়ারি হিসেবে বিক্রি প্রায় স্থির ছিল।

    বড় পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো দেশের ক্ষেত্রে এটি রপ্তানির জন্য ইতিবাচক খবর।

    শে আরও বলেন, অনলাইনে ছাড়ের অপেক্ষায় থাকা ক্রেতারা সাইবার মানডে পর্যন্ত কেনাকাটা কিছুটা পিছিয়ে দিতে পারেন। কারণ, এ বছর থ্যাংকসগিভিং উৎসব দেরিতে হওয়ায় সাইবার মানডে ডিসেম্বর মাসে পড়েছে।

    তিনি বলেন, ভোক্তারা দামের ব্যাপারে সচেতন এবং ছুটির মৌসুমে হিসাব করে ব্যয় করছেন। খুচরা বিক্রেতারাও সব বাজেটের জন্য প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ছুটির মৌসুমের পূর্বাভাস এবং পুরো বছরের খুচরা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়