জেড নিউজ, ঢাকা:
তিন দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এবং ৪ দাবিতে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রাথমিকের বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। আর মাধ্যমিক স্তরের চলমান বার্ষিক পরীক্ষা এবং নির্বাচনী পরীক্ষাও বন্ধ রেখেছে শিক্ষকরা। এতে সারা দেশে পরীক্ষার সূচি ভেঙে পড়েছে। যাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষকদের দাবি থাকতেই পারে, কিন্তু এরজন্য বছরের সবচেয়ে জরুরি মূল্যায়ন বন্ধ করে দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর যে মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, তার দায় কে নেবে বলে তারা উদ্বেগ জানিয়েছেন।
মাধ্যমিক শিক্ষকদের আন্দোলন গত সপ্তাহ থেকে তীব্র আকার ধারণ করে। ৯ম গ্রেডে এন্ট্রি, ক্যাডারভুক্তি, টাইমস্কেল, পদোন্নতি ও বকেয়া আর্থিক সুবিধা– এই চার দাবি বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির। সরকারের কাছ থেকে কোনো সমাধান না পেয়ে তারা আজ থেকে চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেন। জানান, খাতা মূল্যায়নেও অংশ নেবেন না। শিক্ষক নেতারা বলছেন, দাবি নিয়ে বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস পেয়েছেন। তাই বাধ্য হয়েই কঠোর কর্মসূচিতে।
এদিকে, বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন লাখের বেশি সহকারী শিক্ষক কর্মবিরতিতে। এতে দেশের ১ কোটিরও বেশি শিক্ষার্থীর পাঠদান বন্ধের পাশপাশি আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। রোববার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষকদের কর্মবিরতি সরকারি চাকরি আইন এবং সরকারি বিধিমালার পরিপন্থি।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সব পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর মাউশি। আদেশে বলা হয়, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বা কর্মকর্তার যেকোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



