জেড নিউজ ডেস্ক :
ফুটবল বিশ্বকাপের কথা উঠলেই আর্জেন্টিনার নাম উঠে আসে সবার আগে। আর আর্জেন্টিনার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসির জাদু যেমন আর্জেন্টিনাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে, তেমনি দেশটির আরেকটি পরিচয় হলো ‘মাতে’। আর্জেন্টিনায় মাতে শুধু একটি পানীয় নয়; এটি বন্ধুত্ব, আড্ডা, পরিবার এবং জাতীয় সংস্কৃতির প্রতীক।
বিশ্বকাপের সময় আর্জেন্টিনার সমর্থকদের হাতে পতাকার পাশাপাশি যে জিনিসটি প্রায়ই দেখা যায়, সেটি হলো মাতে ভর্তি ক্যালাবাশ কাপ এবং ধাতব স্ট্র। মাঠে যাওয়ার আগে, দীর্ঘ যাত্রাপথে কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার সময় সর্বত্রই মাতে তাদের সঙ্গী। এমনকি মেসিকেও প্রায়ই মাতে পান করতে দেখা যায়, যা এই পানীয়কে বিশ্বজুড়ে আরও জনপ্রিয় করেছে।
মাতে হচ্ছে ক্যাফেইন-সমৃদ্ধ ভেষজ পানীয়। এটি তৈরি হয় ‘ইয়েরবা মাতে’ নামের একটি উদ্ভিদের শুকনো পাতা দিয়ে। মাতে সাধারণত একটি ফাঁপা লাউয়ের খোলের ভেতর থেকে বোম্বিলা নামক ধাতব নল দিয়ে পান করা হয়। আর্জেন্টিনার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিবারের ঘরে মাতে পাওয়া যায়। এটি দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং জাতীয় পরিচয়ের অংশ।
বিভিন্ন গবেষণা ও আর্জেন্টিনার ইয়েরবা মাতে ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একজন আর্জেন্টাইন বছরে গড়ে প্রায় ১০০ লিটার মাতে পান করেন। অর্থাৎ দৈনিক গড়ে প্রায় ০.২৭ লিটার বা ২৭০ মিলিলিটার। সাধারণ এক কাপের পরিমাণ যদি ২০০-২৫০ মিলিলিটার ধরা হয়, তাহলে গড়ে একজন আর্জেন্টাইন প্রতিদিন প্রায় ১ থেকে ১.৫ কাপের সমপরিমাণ মাতে পান করেন। তবে বাস্তবে অনেকেই দিনে ১ লিটার বা তারও বেশি মাতে পান করেন, কারণ একই পাত্রে বারবার পানি ঢেলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করা হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, আর্জেন্টিনার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রতিদিন মাতে পান করেন এবং অধিকাংশ মানুষ এটিকে অভ্যাস, স্বাদ এবং সামাজিকতার অংশ হিসেবে দেখেন।
আর্জেন্টিনার সংস্কৃতিতে মাতে ভাগাভাগি করে পান করার একটি বিশেষ রীতি রয়েছে। একজন ব্যক্তি মাতে প্রস্তুত করেন, তারপর সেটি একে একে সবার হাতে ঘুরে যায়। এই প্রথা বন্ধুত্ব, আস্থা ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধরুন আপনি মাতে পান করতে গেছেন, আপনাকে যে মাতে দেওয়া হবে, শুধু ততটুকুই পান করবেন। পান করা শেষ হলে, আপনি সেটি পরিবেশনকারীকে ফেরত দেবেন, যিনি তাতে গরম পানি ভরে বৃত্তের পরবর্তী ব্যক্তিকে দিয়ে দেবেন।
কখনো স্ট্র স্পর্শ করবেন না। এই স্ট্রকে বলা হয় বোম্বিলা। বোম্বিলা নিয়ে নাড়াচাড়া করাকে একটি গুরুতর সামাজিক ভুল হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ এতে যত্ন করে গোছানো পাতাগুলো এলোমেলো হয়ে যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আপনি ওয়েটারকে কেবল তখনই ‘গ্রাসিয়াস’ (ধন্যবাদ) বলবেন, যখন আপনার খাওয়া সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে এবং আপনি আর দ্বিতীয়বার খেতে চাইবেন না।



