জেড নিউজ ডেস্ক :
দারুণ কিছু অ্যাকশন, ভীতিকর খলনায়ক (মিশা সওদাগর), জমজমাট আইটেম গান, টুইস্ট আর বড় দুই তারকা (আরেফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম)—সাইফ চন্দনের ‘মালিক’–এ বাণিজ্যিক সিনেমার সব মসলাই ছিল। তারপরও রান্নাটা ঠিকঠাক হলো না; ‘মালিক’ তাই হয়ে রইল আক্ষেপের নাম।
বেরিগঞ্জের জেটিঘাট থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের একদিকে আছে আলাউদ্দিন (মিশা সওদাগর), অন্যদিকে জর্জ (বড়দা মিঠু)। আলাউদ্দিনের নির্যাতনে এলাকাছাড়া হয় তার ভাবিজি (নিমা রহমান)। ২০ বছর পর এলাকায় ছেলে আমিরকে (আরিফিন শুভ) নিয়ে ফিরে আসে ভাবিজি। শুরু হয় ক্ষমতার ত্রিমুখী লড়াই। আমিরকে ঠেকাতে চিরশত্রু জর্জ আর আলাউদ্দিনকে এক করে তাদের গডফাদার এলাকার সংসদ সদস্য হাবিবুল্লাহ (সালাউদ্দিন লাভলু)। এর মধ্যেই হাজির হয় ডানপিটে তরুণী মায়াবতী (বিদ্যা সিনহা মিম)। কে সে? সবাই মিলে কি আমিরকে ঠেকাতে পারে? এসবকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প।অ্যাকশন-থ্রিলার ‘মালিক’–এর নির্মাণে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার ছাপ স্পষ্ট। শুরুর দিকে আরিফিন শুভর নায়কোচিত উপস্থিতি, স্লো মোশন অ্যাকশন দৃশ্যগুলো ভালোই জমেছিল। কিন্তু সিনেমা যত এগোতে থাকে, ততই যেন খেই হারিয়ে ফেলেন নির্মাতা। শুরুতে সম্পাদনার বেহাল বিরক্তির উদ্রেক করেছে। একবার বর্তমান, একবার ফ্ল্যাশব্যাক দেখাতে গিয়ে লেজেগোবরে করে ফেলা হয়েছে। সেটা কাটিয়ে আমিরের আগমনের পর গতি পায় সিনেমা। কিন্তু মায়াবতীর আগমন আর তার সঙ্গে আমিরের সম্পর্ককে বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি নির্মাতা। হঠাৎ করেই আইটেম গান ‘গুলগুলি পিঠা’তে এমন সব চরিত্র হাজির হয় আর তাদের মধ্যে রসায়ন দেখানো হয়, যাদের তখনো পরিচয়ই হয়নি!
প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে মিশা সওদাগর আর বড়দা মিঠু ছাড়া প্রায় সবার অভিনয়ই মনে হয় আরোপিত। আরেফিন শুভ অ্যাকশন দৃশ্যে দুর্দান্ত; কিন্তু রোমান্টিক বা আবেগের দৃশ্যে সেরাটা দিতে পারেননি। বিশেষ করে কিছু দৃশ্যে তাঁর দীর্ঘ মনোলগ বিরক্তি তৈরি করে। মিমও এই সিনেমায় ছিলেন স্রেফ চলনসই। চার বছর পর বড় পর্দায় প্রত্যাবর্তন আর স্মরণীয় করতে পারলেন কই। পর্দায় আরিফিন শুভর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন নিমা রহমান। চরিত্রটি পুরোনো বাংলা সিনেমার দাপুটে মা চরিত্রগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়। তবে তাঁর সঙ্গে আরিফিন শুভর কয়েকটি দৃশ্য ও সংলাপে মনে হয়েছে, পরিচালক ‘আম্মাজান’ সিনেমা থেকে বেশ অনুপ্রাণিত।
ঈদের মৌসুমে বিনোদনধর্মী বাণিজ্যিক সিনেমা উপহার দিতে চেষ্টা করেছিলেন নির্মাতা। কিন্তু চিত্রনাট্য, সম্পাদনা আর দুর্বল নির্মাণের কারণে সে চেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। এ কারণেই আবহ সংগীত, গান ভালো হলেও ‘মালিক’ দাঁড়ায়নি।



