০৬/০৫/২০২৬, ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বিপ্লবের মন্ত্রে উঠে দাঁড়াও হাদী

    আমিরুল ইসলাম কাগজী

    জেড নিউজ:
    গুলির শব্দ কখনো শুধু একটি শরীরকে বিদ্ধ করে না—তা বিদ্ধ করে একটি প্রজন্মের স্বপ্ন, একটি আন্দোলনের আশা, একটি দেশের বিবেক। আজ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, জুলাই বিপ্লবের অন্যতম সেনানায়ক শরিফ ওসমান হাদী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। হাসপাতালের শয্যায় নিঃশ্বাসের ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গে কেঁপে উঠছে একটি জাতির হৃদয়। সারাদেশ আজ নীরব প্রার্থনায় দাঁড়িয়ে—হে আল্লাহ, আমাদের হাদিকে ফিরিয়ে দাও। সদা হাস্য উজ্জ্বল প্রাণবন্ত হাদী তোমার অপেক্ষায় সবাই। চেয়ে দেখো তোমার শত সহস্র লাখো সঙ্গী সাথী মাঠে নেমে পড়েছে। তাদের চোখে প্রতিবাদের আগুন- ঘাতকের শাস্তি চাই। কঠোর শাস্তি।

    ওসমান হাদী কোনো সাধারণ নাম নয়-বিপ্লবের আগুন। তিনি একটি উচ্চারণ—অন্যায়ের বিরুদ্ধে, ফ্যাসিবাদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর, মাথা উঁচু করে সত্য বলার উচ্চারণ। জুলাই বিপ্লবের উত্তাল দিনগুলোতে যখন ভয় মানুষকে গ্রাস করছিল, তখন ওসমান হাদী ছিলেন সাহসের প্রতিচ্ছবি। মাইকের সামনে তার কণ্ঠ কাঁপেনি, চোখে ছিল না দ্বিধা। তিনি জানতেন—সত্য বলার মূল্য আছে, কিন্তু নীরব থাকার মূল্য আরও বেশি।

    ইনকিলাব মঞ্চকে যারা শুধু একটি প্ল্যাটফর্ম মনে করে, তারা ওসমান হাদীকে বোঝেনি। এই মঞ্চ ছিল নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়, ক্ষুব্ধ তরুণদের কণ্ঠস্বর, আর ওসমান ছিলেন সেই কণ্ঠের ভাষ্যকার। তার শব্দগুলো আগুনের মতো ছিল, কিন্তু সে আগুন পোড়ানোর জন্য নয়—অন্ধকার আলোকিত করার জন্য। তিনি বারবার বলেছেন, “ভয় পেলে চলবে না, ইতিহাস ভীরুদের ক্ষমা করে না।” আজ সেই মানুষটিই রক্তাক্ত, নিস্তব্ধ—আর ইতিহাস যেন থমকে আছে তার শয্যার পাশে।

    গুলিবিদ্ধ দেহে যন্ত্রণার ক্ষত যত গভীরই হোক, ওসমান হাদীর আদর্শ অক্ষত। তার রক্ত মাটিতে পড়ে থাকলেও তা বৃথা যাবে না—এই বিশ্বাস আজ লাখো মানুষের চোখে, মুখে, হৃদয়ে। মায়েরা দোয়া করছেন সন্তানের জন্য, তরুণরা অশ্রু সংবরণ করে শপথ নিচ্ছে—ওসমানের পথ ছেড়ে যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে সারা দেশের শিক্ষাঙ্গন, রাজপথ, অলিগলিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে জুলাই বিপ্লবের সহযোদ্ধারা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তারা। কারণ তিনি শিখিয়েছেন, বিপ্লব মানে নৈতিক দৃঢ়তা, অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করা।

    আজ হাসপাতালের করিডোরে শুধু চিকিৎসার শব্দ নয়—শোনা যাচ্ছে মানুষের দীর্ঘশ্বাস, দোয়ার অনুচ্চ উচ্চারণ। অনেকেই তাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেনি, তবু তাকে নিজের মনে করছে। এটাই ওসমান হাদীর শক্তি—তিনি ব্যক্তি নন, প্রতীক। তিনি জুলাই বিপ্লবের প্রতীক। জুলুম নির্যাতন-বিরোধী মিছিলের প্রতীক। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে আমরা দাঁড়াতে শিখেছি; তিনি কথা বলেছেন বলে আমরাও কথা বলতে পেরেছি। আমরাও প্রতিবাদ করতে পেরেছি।

    হে ওসমান হাদী, তুমি লড়ে যাও। উঠে দাঁড়াও বিপ্লবের মন্ত্রে। কারণ তোমার ভিতরে যে আগুন তাকে কেউ নিভাতে পারবে না।কাপুরুষ ঘাতকের বুলেট তোমার বিপ্লব এবং সাহসকে পরাজিত করতে পারবেনা। তুমি জেগে ওঠো বিপ্লবের মন্ত্রে। আমরা আছি তোমার সাথে, তোমার পাশে অতন্দ্র প্রহরী হয়ে। এই দেশ তোমার অপেক্ষায়। তোমার কণ্ঠ আবার ফিরুক জনতার কন্ঠ হয়ে, তোমার চোখে আবার জ্বলুক সেই আগুন যে আগুনে পুড়ে ছারখার হয়েছে ফ্যাসিবাদের হিমালয় পর্বত। জুলাই বিপ্লবের সেনানায়ক হিসেবে তুমি শুধু ইতিহাসের পাতায় নও—তুমি আমাদের হৃদয়ে। আল্লাহ তোমাকে হেফাজত করুন, সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দিন। আমিন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়