জেড নিউজ ডেস্ক:
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলমান আন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যন্তর মন্তরের মূল বিক্ষোভস্থল শান্ত থাকলেও সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, সংসদ মার্গ এলাকায় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দেয়।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে দুই সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি), একজন পরিদর্শক, একজন প্রধান কনস্টেবল ও একজন কনস্টেবলসহ মোট পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, সংসদ মার্গের পার্ক হোটেল এলাকার কাছে বিক্ষোভকারীদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় একজন পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া দিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা নেয় পুলিশ। তারা বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। স্বেচ্ছাসেবকদের ভাষ্য, সহিংসতা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পরে লাউডস্পিকার সংযুক্ত একটি পুলিশ বাসে একজন স্বেচ্ছাসেবককে দাঁড় করিয়ে সংসদ মার্গ এলাকায় ঘোরানো হয়। তিনি মাইকে আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার এবং অহিংসভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার (২২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত যন্তর মন্তর কেন্দ্র করে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, এয়ারটেল, জিও ও ভি-সহ বিভিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান সরকারি এ নির্দেশনা পায়। দুটি বড় টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও এ নির্দেশ কোন সরকারি কর্তৃপক্ষ জারি করেছিল, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবকে পুলিশ আটক করে। সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই কর্মসূচির পর রাজধানীর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে দিল্লির ১৬টি মেট্রো স্টেশনও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে নগরবাসীর চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিচার বিভাগের সক্রিয় ভূমিকার প্রেক্ষাপটে ভারতের পরিস্থিতি নতুন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছে। এখন সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আন্দোলনকারীদের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে সংকট কত দ্রুত সমাধানের পথে এগোবে।





