জেড নিউজ, ঢাকা:
ঢাকা মহানগরীতে সড়কে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিডিও ও স্থিরচিত্র ধারণ করে স্বয়ংক্রিয় (অটো জেনারেটেড) নোটিশ পাঠানো শুরু করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অভিযুক্ত ব্যক্তি নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধে হাজিরা না দিলে পরবর্তী ধাপে সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির কার্যক্রমও শুরু হচ্ছে।
রবিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগরের অভ্যন্তরে চলাচলরত সকল যানবাহনের মালিক ও চালকদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, প্রতিবন্ধকতা ইত্যাদি ট্রাফিক আইন অমান্যকারী মালিক বা চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ভিডিও বা স্থিরচিত্র ধারণ করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে মালিক বা চালকের ঠিকানায় অটো জেনারেটেড (স্বয়ংক্রিয়) নোটিশ রেজিস্ট্রি ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক বা চালক ডিএমপি সদর দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করছেন।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নোটিশপ্রাপ্তির পরও সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালক সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে হাজির না হলে তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া (সমন বা গ্রেফতারি পরোয়ানা) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
এ প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে মামলার জরিমানা পরিশোধ সংক্রান্ত কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান থেকে বিরত থাকার জন্য সবাইকে পরামর্শ দিয়েছে ডিএমপি। কোনো ব্যক্তি বা অসাধু চক্র ভিডিও বা সিসি ক্যামেরার মামলার নাম ব্যবহার করে অর্থ পরিশোধের বার্তা দিলে বা প্রতারণার চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিক নিকটস্থ থানা অথবা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।
ডিএমপির গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্প্রতি বিভিন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল ক্রসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উন্নত প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা এআই প্রযুক্তিসহ স্থাপন করেছে। এসব ক্যামেরার ফুটেজের মাধ্যমে বিভিন্ন সিগন্যাল বা ক্রসিংয়ে লাল বাতির সিগন্যাল অমান্য বা স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো রাস্তায় চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী উঠিয়ে প্রতিবন্ধকতা, অবৈধ পার্কিং, লেফট লেন ব্লক ইত্যাদি কারণে ডিজিটাল প্রসিকিউশন বা মামলা শুরু হয়েছে।



