জেড নিউজ, ঢাকা:
স্কুলের বন্ধ জানালায় উঁকি দিয়ে শিক্ষকের প্রতিটি শব্দ মন দিয়ে শুনত ৯ বছরের এক ছোট মেয়ে। ঘরে হাজারো কাজের চাপ সত্ত্বেও তার শেখার আগ্রহ কমেনি। পোষা টিয়া পাখি মিঠুর সঙ্গে সুর মিলিয়ে নামতা চর্চা করা সেই মেয়েটি নিজের বুদ্ধিতে মুরগি চোর ধরে প্রমাণ করেছিল, সে-ও পারে। এরপরই গলেছিল বাবার মন, খুলেছিল স্কুলের পথ। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায় দেখা এই দৃশ্য কেবল অ্যানিমেশনের গল্প ছিল না, ছিল দেশের কোটি কন্যাসন্তানের জীবনের প্রতিচ্ছবি।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, সারা দেশে পালিত হচ্ছে ‘মীনা দিবস’। নব্বইয়ের দশকে ইউনিসেফের উদ্যোগে কন্যাসন্তানের অধিকার রক্ষা ও সচেতনতা ছড়াতে তৈরি হয় কার্টুন চরিত্র ‘মীনা’। তখন তার মূল লড়াই ছিল শিক্ষার অধিকার অর্জন করা। ঘরে বন্দি অবস্থা থেকে বের হয়ে মীনা যেভাবে স্কুলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তিন দশক পর দেশের বাস্তব চিত্র সেই রূপকথাকেও ছুঁয়ে গেছে। একদিন যে ভাই রাজু একা স্কুলে যেত, আজ প্রাথমিক থেকে শুরু করে পাবলিক পরীক্ষা পর্যন্ত সেই রাজুদেরই টেক্কা দিচ্ছে মীনারা।
মেয়েদের ক্ষমতায়নই ছিল মীনা দিবসের মূল লক্ষ্য। পরীক্ষার এই সাফল্যকে এখন উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানে রূপান্তর করাই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে (STEM) নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে মীনা দিবসের মূল উদ্দেশ্য পুরোপুরি সার্থক হবে।
আজকের ২০২৬ সালের মীনা দিবসে দাঁড়িয়ে বলা যায়, কার্টুনের সেই ৯ বছরের মীনা আজ দেশের কোটি ছাত্রীর মাঝে মিশে গেছে। তারা প্রতি বছর সফলতার নতুন নতুন ইতিহাস লিখে চলেছে।




