spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

চায়ে চিনির বদলে গুড়, আসলেই কি স্বাস্থ্যকর

জেড নিউজ, ঢাকা:

চিনি নাকি গুড়? চায়ে কোনটি দিতে হবে, কোনটির স্বাস্থ্যঝুঁকি কেমন—এসব নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন আড্ডায় চলে বিতর্ক। কিন্তু সমাধান আর হয় না। এসব তর্কবিতর্ক বা আলোচনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে চায়ে চিনি এড়াতে অনেকে কাপে তুলে নিচ্ছেন এক চামচ গুড়। ডায়েট চার্ট থেকে হোয়াইট পয়জন খ্যাত সাদা চিনি বাদ দিয়ে গুড় কিংবা মধু আপন করে নেওয়ার ট্রেন্ড এখন তুঙ্গে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, চিনির জায়গায় গুড় ব্যবহার করলেই কি সব স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব? পুষ্টিবিজ্ঞানীরা কিন্তু বলছেন ভিন্নকথা। অনেকে মনে করেন, গুড় খেলে ওজন বাড়ে না কিংবা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।

পুষ্টিবিদদের মতে, এক টেবিল চামচ সাদা চিনি আর এক টেবিল চামচ গুড়—দুটো থেকেই শরীর প্রায় ৬০ ক্যালরি পেয়ে থাকে। আবার গুড়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। তাই চিনি খাওয়ার পর রক্তে যেভাবে সুগার বাড়ে, গুড় খেলেও ঠিক একইভাবে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়ে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চিনির মতো গুড়ও সমান ক্ষতিকর এবং বর্জনীয়।

পুষ্টি উপাদানে গুড় যেখানে এগিয়ে
এখন মনে প্রশ্ন আসতেই পারে, গুড়কে কেন চিনির চেয়ে কিছুটা ভালো বা স্বাস্থ্যসম্মত বলা হয়? উত্তরটা খুব সহজ। এর মূল কারণ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খনিজ উপাদান। সাদা চিনি তৈরি হয় তীব্র রিফাইনিং বা পরিশোধনের মাধ্যমে। ফলে এর ভেতরের সব পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং এটি শুধু শূন্য ক্যালরিতে পরিণত হয়। অন্যদিকে, গুড় কম প্রক্রিয়াজাত এবং প্রাকৃতিক। ফলে গুড়ে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় উপাদান থেকে যায়। যেমন গুড় আয়রনের খুব ভালো উৎস, যা রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামও থাকে। আবার প্রাচীনকাল থেকে গুড় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং হজমশক্তি বাড়াতে ঘরোয়া টোটকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি লিভার ও শরীর ডিটক্স বা বিষমুক্ত করতেও সাহায্য করে।

গুড় মানে কি আসলেই গুড়
গুড় ভালো জেনেই যদি আপনি বাজার থেকে যেকোনো গুড় কিনে আনেন, তবে উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি হতে পারে। আজকাল গুড় তৈরিতে দেদার সাদা চিনি, কৃত্রিম রং ও নানা রাসায়নিক উপাদান মেশানো হয়। এই রাসায়নিকযুক্ত ভেজাল গুড় শরীরের জন্য এককথায় ক্ষতিকর। তাই গুড় কিনতে হলে সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত খাঁটি গুড় খুঁজে বের করা জরুরি। যেসব খাবার কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেযেসব খাবার কর্টিসলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

সিদ্ধান্ত যেভাবে নেবেন
গুড় চিনির চেয়ে তুলনামূলক ভালো, এ কথা বলা যেতে পারে। যদি আপনার ডায়াবেটিস বা স্থূলতার সমস্যা না থাকে এবং আপনি চিনির বিকল্প হিসেবে কিছু পুষ্টি উপাদান পেতে চান, তবে সীমিত পরিমাণে খাঁটি গুড় খেতে পারেন। তবে মনে রাখতে হবে, মাত্রাতিরিক্ত গুড় খেলেও ওজন বাড়বে এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি তৈরি হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও দৈনিক চিনি বা গুড় ব্যবহারের পরিমাণ মোট ক্যালরির ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত।

গুড় ও চিনি ছাড়াও যেভাবে সুস্বাদু চা পান করা যায়
পাত্রে পানি, দারুচিনি এবং থেঁতো করা এলাচি একসঙ্গে নিয়ে ৩ থেকে ৪ মিনিট ফুটিয়ে নিন। মসলার সুগন্ধ বের হলে তাতে চা-পাতা দিয়ে দিন এবং লিকার গাঢ় হওয়া পর্যন্ত ফোটান। এবার দুধ ঢেলে দিন এবং চুলার আঁচ মাঝারি রেখে ভালো করে ফুটতে দিতে হবে। চা যত ভালো ফুটবে, মসলার স্বাদ তত বেশি দুধের সঙ্গে মিশে যাবে। ছাঁকনি দিয়ে কাপে ছেঁকে নিয়ে পরিবেশন করুন। চা পান করতেও ভালো লাগবে; আবার এলাচি, দারুচিনির উপকারিতাও পাওয়া যাবে।

বিকল্প যখন আছে, তখন চিনি বা গুড়—দুটিই বাদ দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়