১৬/০৫/২০২৬, ১৯:৫০ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    কুরবানির প্রস্তুতি নিন

    জেড নিউজ , ঢাকা :

    ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কুরবানি, যা ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ। এ ইবাদত শুধু পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্য, ত্যাগ ও তাকওয়ার এক মহান প্রতীক। তাই একজন কুরবানিদাতার উচিত আগে থেকেই যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ করা এবং কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে কুরবানি দেওয়া। কুরবানির মূল উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। মহান আল্লাহ বলেন : আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত ও রক্ত, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। (সূরা আল-হাজ ২২:৩৭)। এ আয়াত স্পষ্ট করে দেয় কুরবানির আসল শিক্ষা হলো হৃদয়ের পবিত্রতা ও আল্লাহভীতি।

    কুরবানির প্রথম ও প্রধান প্রস্তুতি হলো নিয়ত ঠিক করা। কুরবানি যেন লোক দেখানো বা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের জন্য না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হয়। রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন : নিশ্চয়ই সব কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১)।

    কুরবানির পশু অবশ্যই হালাল উপার্জনের অর্থ দিয়ে ক্রয় করতে হবে। হারাম উপার্জনে করা ইবাদত কবুল হয় না। কুরবানির পশু হতে হবে ত্রুটিমুক্ত ও নির্ধারিত বয়সের। রাসূল হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন : চার ধরনের পশু কুরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয় অন্ধ, রোগাক্রান্ত, খোঁড়া ও অত্যন্ত দুর্বল (সুনান আবু দাউদ)।

    যখন জিলহজ মাস শুরু হবে, তখন কুরবানিদাতা চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে। রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন : যে ব্যক্তি কুরবানি করতে চায়, সে যেন (জিলহজের চাঁদ দেখার পর) তার চুল ও নখ না কাটে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৭৭)।

    এসময় বেশি বেশি নামাজ, তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া করা উচিত। বিশেষ করে ৯ জিলহজ (আরাফার দিন) থেকে তাকবিরে তাশরিক পড়া সুন্নত। তাকবির হলো-‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ’। সম্ভব হলে নিজ হাতে কুরবানি করা উত্তম। রাসূল হজরত মুহাম্মাদ (সা.) নিজেই কুরবানি করতেন। (সহিহ বুখারি)।

    কুরবানি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়; এটি সমাজে সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে। কুরবানির গোশত তিন ভাগে বণ্টন করা উত্তম। এক ভাগ নিজের জন্য। এক ভাগ আত্মীয়স্বজনের জন্য। এক ভাগ গরিব-মিসকিনদের জন্য।

    কুরবানি একটি সামগ্রিক ইবাদত যেখানে নিয়ত, ত্যাগ, তাকওয়া ও মানবিকতা একসঙ্গে মিলিত হয়। একজন সচেতন মুসলমানের উচিত অগ্রিম প্রস্তুতি গ্রহণ করে এ ইবাদতকে পরিপূর্ণভাবে আদায় করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কুরবানির প্রকৃত শিক্ষা উপলব্ধি করার এবং তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়