টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
“ভাষা ও কাজ শিখে তবেই বিদেশ যেতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।” আজ সোমবার টাঙ্গাইলের নগর জালফৈস্থ ব্র্যাক আঞ্চলিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিয়া।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিদেশফেরত নারী ও শিশু অভিবাসীদের অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, “নারী কর্মীদের বিদেশ যেতে কোনো টাকা লাগে না। কিন্তু স্থানীয় দালালদের খপ্পরে পড়ে তারা টাকা লেনদেন করেন। এ ধরনের বেআইনি কাজ থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে এবং সচেতন হতে হবে।” তিনি আরও জানান, সরকার অনুমোদিত প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের মাধ্যমে বিদেশ-ফেরত ও বিদেশগামীদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফাতেমা বেগম তাঁর বক্তব্যে জানান, বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়া হবে যাতে তারা দেশে ফিরেও স্বাবলম্বী হতে পারেন।
ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটর সরকার হাসান ওয়াইজের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট (রেফারেল অ্যান্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং) সাবিনা সাঈদ। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিদেশফেরত অভিবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক দেশের অভিবাসনপ্রবণ জেলাগুলোতে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, টেকসই পুনরেকত্রীকরণ এবং বিদেশফেরতদের অধিকার রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্প বর্তমানে বিদেশ-ফেরতদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণে বিশেষ ভূমিকা রাখছে।



