২৮/০৪/২০২৬, ১৭:২২ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    মানবদেহের আটটি বিস্ময়কর তথ্য

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    আপনি কি জানেন, আপনি নিজের সম্পর্কে যা দেখছেন, শুনছেন বা অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন তা আসলে কিছুই না। আপনি হয়ত সবচেয়ে কম চেনেন নিজেকে। আপনার নিজের শরীরের এমন কিছু ক্রিয়া প্রুতিক্রিয়া আছে যা প্রতিনিয়ত আপনার সাথে ঘটে যাচ্ছে, কিন্তু আপনি সেগুলো জানেনই না। চলুন জেনে নেই মানব শরীরের বিস্ময়কর আটটি তথ্য।

    এক

    চোখ আমাদের একটানা কোনো ‘ভিজ্যুয়াল’ সরবরাহ করে না। বরং এটি খুব দ্রুত নড়াচড়া করে চারপাশের ছোট ছোট দৃশ্যকে ধারণ করে। এক ধরনের ‘স্ন্যাপশট’ হিসেবে। মানুষের চোখ ৫৭৬ মেগাপিক্সেলে সবকিছু ধারণ করে এরপর মস্তিষ্ক সেই ভাঙা ভাঙা অংশগুলোকে সম্পাদনা করে একটি পূর্ণাঙ্গ দৃশ্য তৈরি করে। তাই আপনি যা দেখেন, তা কোনো সরাসরি, নিরবচ্ছিন্ন বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। বরং মস্তিষ্কের এডিট করা ভিডিও।

    দুই

    আপনার সঙ্গে কি এমন হয়েছে যে আশপাশের মানুষ বলছে আপনি শুকিয়ে গেছেন বা একটু হেলদি হয়েছেন, কিন্তু আপনি তা বুঝতে পারছেন না? কেন এমন হয় জানেন? কারণ নিজের মুখ অসংখ্যবার দেখার কারণে মস্তিষ্ক এটিকে নতুন তথ্য হিসেবে আর গুরুত্ব দেয় না। পরিচিত তথ্যকে বাদ দেয়া মস্তিষ্কের একটি স্বাভাবিক প্রবণতা।

    তিন

    হৃদপিণ্ড শরীরের বাইরে থেকেও অল্প সময়ের জন্য স্পন্দিত হতে পারে। হৃদপিণ্ডের নিজস্ব একটি বিদ্যুৎ-উৎপাদনকারী সিস্টেম আছে, যাকে বলা যায় তার ‘প্রাকৃতিক পেসমেকার’। এই কারণে যদি পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও উপযুক্ত পরিবেশ সরবরাহ করা হয়, তাহলে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও তা স্পন্দিত হতে পারে।

    চার

    আপনার শরীর প্রতি ৭-১০ বছর পর পর পরিবর্তিত হয়ে নতুন শরীরে রূপান্তরিত হয়। ত্বকের কোষগুলো সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বদলে যায়। অন্ত্রের ভেতরের আস্তরণ আরো দ্রুত—কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই পুনর্গঠিত হয়। রক্তের লাল কণিকাগুলো প্রায় ১২০ দিনের মধ্যে প্রতিস্থাপিত হয়, আর চুল ও নখ তো অবিরামভাবে বাড়তে থাকে এবং নিয়মিত নবায়িত হতে থাকে। এই প্রক্রিয়া চলতে চলতে একসময় পুরোনো সবকিছু বদলে শরীর নতুন রূপে আবর্তিত হয়।

    পাঁচ

    আমাদের কান কখনোই সত্যিকার অর্থে ‘বন্ধ’ হয়ে যায় না। আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখনো শ্রবণেন্দ্রিয় চারপাশের শব্দ গ্রহণ করতে থাকে। তবে মস্তিষ্ক সেই সময় এক ধরনের বাছাই প্রক্রিয়া চালায়, কোন শব্দ গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি উপেক্ষা করা যায়, তা নির্ধারণ করে দেয়। এই কারণেই আপনি গভীর ঘুমেও রাস্তার যানবাহনের শব্দ উপেক্ষা করে থাকতে পারেন, অথচ হঠাৎ করে আপনার নাম ধরে ডাকা হলে মুহূর্তেই জেগে উঠতে পারেন।

    ছয়

    আপনি যখন নিজেকে একদম স্থির মনে করেন, তখনো শরীরের পেশিগুলো অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কাজ করতে থাকে। এই অদৃশ্য নড়াচড়া শরীরকে ভারসাম্য ও স্থিতি বজায় রাখতে সাহায্য করে। এগুলো না থাকলে দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা খুব অস্বস্তিকর হয়ে যেত। আমরা শরীরের নিয়ন্ত্রণ হারাতাম।

    সাত

    আপনি ফুসফুস দিয়ে শ্বাস নেন না। ফুসফুস মূলত গ্যাস বিনিময়ের কাজ করে, অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এর কাজ। শ্বাস-প্রশ্বাসের পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করে মস্তিষ্কের ব্রেইনস্টেম, যা বেশিরভাগ সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করে।

    আট

    মিথ আছে মানুষের মৃত্যুর পরও চুল আর নখ বাড়ে। ধারণাটি শুনতে কিছুটা রহস্যময় ও অস্বস্তিকর লাগলেও বৈজ্ঞানিকভাবে এটি সরাসরি সত্য নয়। মৃত্যুর পর চুল বা নখ প্রকৃত অর্থে আর বৃদ্ধি পায় না। বরং যা ঘটে তা হলো, শরীর ধীরে ধীরে আর্দ্রতা হারায়, ত্বক সংকুচিত হয়ে আসে। এর ফলে চুল ও নখ তুলনামূলকভাবে বেশি লম্বা মনে হয়, যদিও বাস্তবে তাদের কোনো বৃদ্ধি ঘটে না।

    আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে অনেক তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছায়। তবে কোন তথ্য আমরা বিশ্বাস করব, কোনটা করব না সেটা বাছাই করতে জানতে হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়