জেড নিউজ ডেস্ক, ঢাকা।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির মাধ্যমে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়।
কর্মসূচিটি পরিচালনা করে ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি। বিবৃতিতে বলা হয়, এই ব্যক্তিরা আইআরজিসির বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা ও নেতৃত্ব দেয়, যা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিকল্পনা, সংগঠিত ও বাস্তবায়ন করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়,’আপনার কাছে যদি এদের বা আইআরজিসির অন্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সম্পর্কে তথ্য থাকে, তাহলে আমাদের টর-ভিত্তিক টিপলাইন বা সিগন্যাল অ্যাপের মাধ্যমে জানাতে পারেন। আপনার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আপনাকে অন্য দেশে পুনর্বাসন এবং পুরস্কারের জন্য যোগ্য বিবেচনা করা হতে পারে।’
যেসব ইরানি নেতার নাম তালিকায় রয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের উপ-চিফ অব স্টাফ আলি আসগর হেজাজি। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি। ঘোষণায় কয়েকটি স্থানে ছবির পরিবর্তে কেবল সিলুয়েট ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি পাওয়া যায়নি।
এই পুরস্কার ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছিল, যা এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। শুক্রবার সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আগামী কয়েক দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে খুব কঠোরভাবে হামলা চালাবে। তিনি বলেন,আগামী সপ্তাহে আমরা তাদের ওপর খুব কঠিন আঘাত হানব। ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ২৮ শে ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা প্রথম দফা হামলা শুরু করে, যাতে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। সেই হামলার পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধের পরিধি বাড়তে থাকে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু হয়।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা শেষ পর্যন্ত দেশের জনগণের হাতেই পতন হতে পারে। তিনি বলেন, যাদের হাতে অস্ত্র নেই, তাদের জন্য এটা বড় বাধা। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা ঘটতে পারে, যদিও হয়তো সঙ্গে সঙ্গে নয়। ট্রাম্পের বক্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী ইতিমধ্যে ১৫ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের বিমানবাহিনী এবং ইসরাইলিদের বিমানবাহিনী মিলিয়ে ১৫ হাজারেরও বেশি শত্রু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করেছে- প্রতিদিন গড়ে এক হাজারেরও বেশি। হেগসেথ জানান, শুক্রবার পর্যন্ত এই অভিযানে সর্বোচ্চ সংখ্যক হামলা চালানো হতে পারে। তার দাবি, এই অভিযানে ইরানের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে।



