১১/০৩/২০২৬, ১৯:৪৬ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    নতুন নোটের অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া কতটা বৈধ

    জেড নিউজ, ঢাকা :

    সমাজে ঈদ, বিবাহ, পুরস্কার বা বিভিন্ন আনন্দঘন উপলক্ষে নতুন নোটের বিশেষ কদর দেখা যায়। এ কারণে অনেক সময় মানুষ ব্যাংক বা বাজার থেকে নতুন নোট সংগ্রহ করে এবং কেউ কেউ তা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রয় করে। যেমন ১০০০ টাকার নতুন নোট ১০৫০ বা ১১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বিষয়টি শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ কি না—এ প্রশ্ন অনেকের মনে জাগে।

    শরিয়তের মূলনীতি ও কোরআন-হাদিসের আলোকে এর বিধান জানা প্রয়োজন

    ইসলামে টাকা মূলত একটি মাধ্যম। অর্থাৎ এটি পণ্য নয়, বরং পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের একটি উপায়। ইসলামী ফিকহে টাকা বা মুদ্রাকে রিবাভুক্ত বস্তু হিসেবে গণ্য করা হয়।

    অর্থাৎ এক ধরনের মুদ্রার সঙ্গে একই ধরনের মুদ্রা বিনিময় করতে হলে তা সমপরিমাণ এবং তাৎক্ষণিক হতে হবে।

    রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য সমপরিমাণে ও হাতে হাতে বিনিময় করতে হবে। যে বেশি নেবে বা বেশি দেবে সে সুদের সঙ্গে জড়িয়ে যাবে।’ (সহিহ মুসলিম)

    এই হাদিসে মূলনীতি দেওয়া হয়েছে—যদি একই ধরনের মুদ্রা বা রিবাভুক্ত বস্তু বিনিময় করা হয়, তাহলে তা সমান পরিমাণে হতে হবে।

    এখন প্রশ্ন হলো—যদি কেউ নতুন নোট বেশি দামে বিক্রি করে, যেমন ১০০০ টাকার নতুন নোট ১০৫০ টাকায় বিক্রি করে, তাহলে এর বিধান কী? ইসলামী ফিকহের বেশির ভাগ আলেমের মতে, এটি সুদের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এখানে একই মুদ্রা বিনিময় হচ্ছে; কিন্তু পরিমাণে পার্থক্য রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ ১০০০ টাকার বিপরীতে ১০৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা রিবার শামিল।

    হাদিসে এসেছে—‘যে ব্যক্তি স্বর্ণ বা রৌপ্যের বিনিময়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করে, সে সুদ গ্রহণ করে।’ (সহিহ মুসলিম)

    বর্তমান যুগে কাগজের নোটও স্বর্ণ-রৌপ্যের মতোই মুদ্রা হিসেবে গণ্য হয়।

    তাই একই নোট বেশি দামে বিক্রি করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়