জেড নিউজ, ঢাকা।
নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকালে রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুয়ায়ী নারী প্রধান পরিবারগুলোর জন্য বিশেষ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক মাসেরও কম সময়ে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে বিএনপি। ফ্যামিলি কার্ডের পর আগামী মাসে কৃষক কার্ড দেয়ার কথা জানান সরকার প্রধান।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সমগ্র দেশবাসীকে ধৈর্যে্যর সাথে সমগ্র পরিস্থিতি মোকাবেলা করার আহবান জানান।
এরআগে, ল্যাপটপের বাটন প্রেস করে সারা দেশের ১৩টি জেলায় একযোগে ৩৭,৫৬৭ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের মঞ্চে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্যসহ ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কর্মসূচির কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন বেগম পারভিন, বেগম বাসুনা, বেগম সমলা, বকুলা বেগম, বেগম জোসনা, তাসলিমা আক্তার, বেগম রাশেদা আক্তার, বেগম হোসনা আক্তার, রীনা বেগম, বেগম শামসুন্নাহার, রোকসানা আক্তার, মারফুজা, রীনা আক্তার, সুমি খাতুন, আকলিমা বেগম ও মিনারা বেগম। পরে সাততলা বস্তি ও ভাষানটেক বস্তি এলাকার রীনা বেগম ও রাশেদা তার অনুভূতি প্রকাশ করেন। ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। আরো বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন প্রমুখ।
প্রাথমিক পর্যায়ে উপকারভোগীরা মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে নগদ সহায়তা পাবেন। পরবর্তী সময় ভাতার পরিবর্তে সমমূল্যের খাদ্যপণ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। সরকার বলছে নারীর ‘ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত’ করতে এটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাইলটিং পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান যাচাই করে একটি তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হয়েছে। কোনো রকম হস্তক্ষেপ বা স্বজনপ্রীতি রোধে ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ (পিএমটি) সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে দারিদ্র্যের সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।
যাচাই-বাছাই শেষে ডাবল ডিপিং (একাধিক ভাতা), সরকারি চাকরি বা পেনশনভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে এই ভাতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ডগুলো হবে ‘আধুনিক ও নিরাপদ’। এতে স্পর্শবিহীন (কন্টাক্টলেস) চিপ, কিউআর কোড এবং জন এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পার্সন) পদ্ধতিতে ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগী নারীর ব্যাংক একাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে জমা হবে। এতে মাঝপথে কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ বা অর্থ লোপাটের ‘সুযোগ থাকবে না’।



