কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসিকে ঠিকমতো দেখতে না পেয়ে দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা সমর্থকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালাতে থাকেন। চেয়ার ভেঙে তা মাঠে ছোঁড়া, বোতল নিক্ষেপ, ব্যানার ছেড়া, অবকাঠামো ভাঙচুর-লুটপাট, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত- রীতিমতো রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল সল্ট লেক স্টেডিয়াম।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্পোর্টসস্টারে একটি কলাম লিখেছেন গাভাস্কার। সেই কলামে মেসির কলকাতা সফরের বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গটি নিয়ে আসেন ভারতীয় অধিনায়ক। গাভাস্কার লিখেছেন, ‘সম্প্রতি কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামের ঘটনাটিও এর উদাহরণ। আর্জেন্টিনার ফুটবলার লিওনেল মেসি সেখানে প্রতিশ্রুত সময়ের তুলনায় অনেক কম সময় উপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় সবাইকে দোষ দেওয়া হয়েছে, অথচ যিনি প্রতিশ্রুতি রাখেননি, তাঁকে এই দোষারোপের বাইরে রাখা হয়েছে।’
গাভাস্কার আরও লিখেছেন, ‘মেসির চুক্তির শর্ত কী ছিল, তার বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। তবে যদি মেসির এক ঘণ্টা স্টেডিয়ামে থাকার কথা থাকে, আর তিনি যদি নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান, তাহলে ভক্তরা যে অনেক চড়া দাম দিয়ে টিকিট কিনেছিল, এটা তাদের জন্য হতাশার। আর এর জন্য মূল দোষী মেসি ও সহযোগীরাই।’
কলকাতার ক্ষুব্ধ সমর্থকেরা মেসির ভারত সফরের মূলত উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে যেমন দোষ দিচ্ছেন, তেমনি দায় চাপিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়া মন্ত্রীসহ রাজনৈতিক নেতা ও সেলিব্রেটিদের। মেসি মাঠে প্রবেশ করতেই নেতা-সেলিব্রেটিদের বড় একটা জটলা মেসিকে ঘিরে ধরে। এতে গ্যালারি থেকে দর্শকেরা মেসির দর্শন থেকে বঞ্চিত হন। আবার মেসিকে ঘিরে ধরা জটলা ক্রমেই বাজে রূপ নিতে থাকলে মোটে ২০ মিনিটের মতো থেকেই মাঠ থেকে বেরিয়ে যান মেসি।
এসব প্রসঙ্গ টেনে সুনীল গাভাস্কার লিখেছেন, ‘হ্যাঁ, তাঁর চারপাশে রাজনীতিবিদ ও তথাকথিত ভিআইপিরা ঘিরে ছিলেন। কিন্তু তাঁর বা তাঁর সফরসঙ্গীদের জন্য কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না। তাঁর কি শুধু স্টেডিয়াম ঘুরে বেড়ানোর কথা ছিল, নাকি পেনাল্টি কিক নেওয়ার মতো কোনো দৃশ্যমান কিছু করার কথা ছিল? যদি সেটা করার কথা থাকে, তাহলে আশপাশের লোকজন এমনিতেই সরে যেতেন, আর দর্শকরা তাঁদের নায়ককে সেই কাজটি করতে দেখতেন— যা দেখতেই তাঁরা এসেছিলেন।’
লেখার শেষভাগে গাভাস্কার যোগ করেন, ‘অন্য শহরগুলোতে মেসির সফর শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে, কারণ সেখানে প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়েছে। তাই কলকাতাকে দোষারোপ করার আগে এটা যাচাই করা দরকার যে, দুই পক্ষই নিজ নিজ প্রতিশ্রুতি ঠিকভাবে পালন করেছে কি না।’
মেসির কলকাতা সফরের বিশৃঙ্খলার প্রসঙ্গটি গাভাস্কার মূলত ভারতীয়দের মাধ্যমে কীভাবে ভারতের সুনাম নষ্ট হচ্ছে, সেই প্রসঙ্গে লিখেছেন। সেখানে ভারতের ক্রিকেটের বিষয়ও উল্লেখ করেছেন তিনি। কলামের শুরুতেই গাভাস্কার লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক মুক্তি পাওয়া হিন্দি সিনেমা ধুরন্ধর-এ একটি দৃশ্যে ভারতের ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধানকে বলতে শোনা যায়, “ভারতীয়দের সবচেয়ে বড় শত্রু ভারতীয়রাই, তারপর পাকিস্তান”… তবে স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকা একজন মানুষ হিসেবে আমি দেখেছি— ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা বা ক্ষোভ, কখনো ভুল বোঝাবুঝি কিংবা কল্পিত অবহেলার অভিযোগে ভারতীয়রাই কীভাবে ভারতের ক্রিকেটকে টেনে কাদায় নামিয়েছে এবং সুনাম নষ্ট করেছে।’
এভাবে কলাম শুরু করে মেসির কলকাতা সফরের বিষয় টেনে নিয়ে যান। শেষে উল্লেখ করেছেন, যাতে শুধু আয়োজক বা কলকাতাকে দোষ দেওয়ার আগে ঘটনার তদন্ত করা হয়। দুই পক্ষই সবকিছু ঠিকঠাক মেনে চলেছিল কিনা, সেটাই বের করার পরামর্শ গাভাস্কারের। আর সেটা যদি করা না হয়, তাহলে কী হবে, সেটা কলামের শেষে এভাবে লিখেছেন ভারতীয় অধিনায়ক, ‘নইলে সিনেমার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর প্রধানের সংলাপটাই সত্যি প্রমাণিত হবে— “আমরা ভারতীয়রাই ভারতের সবচেয়ে বড় শত্রু।