কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
বারি পানি কচু-১ জাতের লতি চাষ করে ভাগ্যবদল করেছেন কুষ্টিয়ার আসমা খাতুন। বর্ষায় পানিতে ডুবে যাওয়া নিচু জমিতে সাধারণত কৃষকদের চাষাবাদের আগ্রহ থাকে সীমিত। তবে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা গ্রামের সেই জমিগুলোতে এখন চাষ হচ্ছে লতি কচু। স্যাঁতসেঁতে জমিতে কচু আবাদে সাফল্য পেয়েছেন আসমা খাতুন।
যশোর অঞ্চলের টেকসহ কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় বাণিজ্যিকভাবে লতি কচু চাষে উদ্যোগ নেন আসমা। গত মার্চে মিরপুর কৃষি অফিসের মাধ্যমে উন্নত জাতের বারি পানি কচু-১ এর চারা সংগ্রহ করে খাঁড়ারা ব্লকে ২০ শতক জমিতে চাষাবাদ শুরু করেন। অল্প সময়ে ভালো ফলন আর খরচ কম হওয়ায় কচু চাষ করে খুশি আসমা।
আসমা খাতুন মাত্র ১৫ হাজার টাকা খরচ করে লাভবান হয়েছেন। প্রতি সপ্তাহে দুবার করে কচুর লতি বিক্রি করেন। প্রতিবার ৫০ কেজি করে কচুর লতি বাজারে নিয়ে যান। প্রতি কেজি ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এখন পর্যন্ত ৬০ হাজার টাকার লতি বিক্রি করেছেন। আরও এক লাখ টাকার কচু বিক্রির সম্ভাবনা আছে।
লতি কচুর ফলন ভালো এবং বাজারে এর চাহিদা বেশি। এজন্য কৃষকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মিরপুরের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ ময়নুল ইসলাম বলেন, মিরপুরের বহলবাড়ীয়া ইউনিয়নের খাঁড়ারা ব্লকের জমিতে লতি কচুর চাষ হচ্ছে। যা প্রতিবছর বাড়ছে। সাধারণ কৃষক ছাড়াও নারীরা এই লতি কচু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ মকিবুল ইসলাম বলেন, কচু চাষ এখন পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক কৃষির একটি স্থায়ী মডেলে হিসেবে।
মিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল-মামুন জানান, সরকারিভাবে যশোর অঞ্চলের টেকসহ কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা এখন এই ফসলকে অর্থকরী সবজি হিসেবে বিবেচনা করছেন বলেও জানান তিনি। বলেন, মিরপুর কৃষি অফিসের সঠিক নির্দেশনা ও বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আসমা খাতুন নিয়মিত আয় করতে পারছেন, যা তাকে অর্থনৈতিকভাবে তাকে স্বাবলম্বী করে তুলেছে।



