বাংলাদেশে চালের বাজারে অস্থিরতার নেপথ্যে ছিল এক ভয়ঙ্কর চিত্র । যার মূল কারিগর আওয়ামী লীগের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। ক্ষমতার চূড়ায় বসে যিনি গড়ে তোলেন ধান-চালের এক শক্তিশালী সিন্ডিকেট । যার নেতৃত্বে ছিলেন তার ছোট ভাই মনোরঞ্জন মজুমদার মনা। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে কোটি কোটি টাকা লুটে নেওয়াই ছিল এই সিন্ডিকেটের মূল কৌশল।
নওগাঁর ৫৭১টি চালকল প্রতিদিন উৎপাদন করে প্রায় ২ হাজার টন চাল, অথচ স্থানীয় চাহিদা মাত্র ৮০০ টন। উদ্বৃত্ত চাল বাজারে সরবরাহ হওয়ার কথা থাকলেও তা সাধন সিন্ডিকেট মজুত করে রাখত। ফলে সুলতানপুরের ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল বা মনোরঞ্জনের সুফিয়া অ্যাগ্রো মিলের মতো প্রতিষ্ঠানে বিগত সময়ে বছরের পর বছর হাজার টন চাল মজুদ থাকত। পরবর্তীতে সে চাল দ্বিগুণ-তিন গুণ দামে বাজারে ছাড়তো তারা।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দরপত্রও ছিল সাধন সদস্যদের সিন্ডিকেটের দখলে। টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে তারা কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিত। বিদেশ থেকে চাল-গম আমদানির ক্ষেত্রেও ‘গম সোহেল’ নামে এক ঠিকাদারকে দিয়ে রামরাজত্ব চালাতেন সাধন।
খাদ্যমন্ত্রী থাকাকালীন সাধন চন্দ্র কৃষকদের প্রতিও ছিলেন সম্পূর্ণ উদাসীন। সরকারি সংগ্রহমূল্য অস্বাভাবিক কম রাখায় উৎপাদন খরচই তুলতে পারতেন না কৃষকরা। ফলে বাধ্য হয়ে ধান বিক্রি করতে হতো মিলারদের কাছে, যারা পরবর্তিতে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করত।
এভাবেই সাধন মন্ত্রী থাকা অবস্থায় গড়ে তুলেছিলেন নিজস্ব সিন্ডিকেট। তার পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়ে যায় ৮ থেকে ২০ টাকা। নওগাঁর মোকাম থেকে শুরু হওয়া এ অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে।
জেড নিউজ , ঢাকা



