চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান মিতাকে রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে গুলশান-২-এর ৪৩ নম্বর সড়কের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।স্থানীয় ট্যুর খুঁজুন
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ.ফ.ম. আনোয়ার হোসেন খান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গুলশান-২-এর ৪৩ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক এই সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর মাহফুজুর রহমান মিতাকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিবির কর্মকর্তা। তবে তাকে ঠিক কোন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, মিতা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানায় দায়ের করা একাধিক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ফলে এসব মামলার কোনো একটির পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাহফুজুর রহমান মিতার বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের মামলায় প্রায় ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। অনুসন্ধানে তার নামে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৬৪ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেলেও ব্যয় বাদে বৈধ সঞ্চয়ের সঙ্গে এর বড় একটি অংশের উৎসের সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের ওই মামলায় অভিযোগের সময়কাল ২০০২ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ধরা হয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছিল, আয়কর নথি, সম্পদের বিবরণ ও বিভিন্ন আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। তবে ওই মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি; বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তদন্তাধীন।
মাহফুজুর রহমান মিতা চট্টগ্রাম-৩ আসন থেকে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।




