জেড নিউজ , ঢাকা :
আগামী শিক্ষাবর্ষে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ইতিহাস, বাংলা, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়সহ বিভিন্ন বইয়ে নতুন বিষয় সংযোজন ও পুরোনো অংশ পুনর্বিন্যাস করছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। মোট ১৩৩টি পাঠ্যবইয়ের পরিমার্জনের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী মাস থেকে ছাপা শুরু হবে।
জানা গেছে, প্রাথমিক স্তরের মোট ৩৬টি পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ শেষ পর্যায়ে। মাধ্যমিকের মোট পাঠ্যবই ৯৯টি। এর মধ্যে ৯৭টি পরিমার্জন করা হয়েছে। প্রাথমিকের পাঠ্যবই ১৬০ জন বিষয় বিশেষজ্ঞ এবং মাধ্যমিকের বইয়ের ক্ষেত্রে ২৫০ জন পরিমার্জন কাজে যুক্ত ছিলেন।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রায় ৩০ কোটি ৮৩ লাখের বেশি পাঠ্যবই মুদ্রণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য আট কোটি ২১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩০ কপি এবং মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ২১ কোটি ২৭ লাখ ২৮ হাজার ৩৩২ কপি বই ছাপানো হবে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে বই ছাপার কাজ শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এনসিটিবির শিক্ষাক্রম উইং ও সম্পাদনা শাখা থেকে জানা গেছে, পাঠ্যবই পরিমার্জনের অংশ হিসেবে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য বইয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ শীর্ষক দুটি রচনার আলোকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি নতুন পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।
এনসিটিবির সম্পাদনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে এবার মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন সেক্টর, জেড ফোর্স, কে ফোর্স, তেলিয়াপাড়া বৈঠক, মুক্তিযুদ্ধের সামরিক কৌশল এবং বিভিন্ন বীর সেনানায়কের অবদান আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হচ্ছে।
একই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে খালেদা জিয়ার ভূমিকা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাস।
২০২৬ সালের মাধ্যমিকের বাংলা বই থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছিল, ইতিহাস এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে তা আগের মতোই রাখা হয়েছে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ইতিহাসের ভারসাম্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত পুনরাবৃত্তি কমিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত আইসিটি বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবটিক্স, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ বিষয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত হচ্ছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য নতুন চারটি বিষয়ের চার বই যুক্ত হচ্ছে।
চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি বই থাকবে। খেলাধুলা বইয়ে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, ব্যাডমিন্টন, কারাতে বা ভলিবল, অ্যাথলেটিকস এবং সাঁতার– এই সাতটি খেলার মৌলিক ধারণা ও ব্যবহারিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে সমকালকে জানান এনসিটিবির গবেষণা কর্মকর্তা রুমা বেগম।
ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই। আনন্দমুখর পরিবেশে শেখাকে উৎসাহিত করতে এ বই তৈরি করা হচ্ছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষা (টিভিই) বিষয়ে একটি উদ্বুদ্ধকরণ বইও যুক্ত হচ্ছে।





