জেড নিউজ স্পোর্টস:
২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ মুখোমুখি হচ্ছে ফ্রান্স ও মরক্কো। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের ফক্সবরোর জিলেট স্টেডিয়ামে (বোস্টন স্টেডিয়াম) অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলেই জয় নিশ্চিত করে দিদিয়ের দেশমের দল। অন্যদিকে শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ আটে ওঠে মরক্কো। গ্রুপ পর্বেও ব্রাজিলের সঙ্গে ড্র এবং হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় আটলাস লায়ন্সরা।
ম্যাচটি ঘিরে বাড়তি আগ্রহের কারণ, এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের পুনরাবৃত্তি। সেবার মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ফ্রান্স। যদিও শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে রানার্সআপ হয় লে ব্লুজরা।
অতীত পরিসংখ্যানও ফ্রান্সের পক্ষেই কথা বলছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে দুই দল এখন পর্যন্ত ছয়বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতে জয় পেয়েছে ফরাসিরা, বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। মরক্কো এখনো ফ্রান্সের বিপক্ষে কোনো জয় পায়নি।
চলতি বিশ্বকাপে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে খেলছে ফ্রান্স। গতি, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। অন্যদিকে কাউন্টার অ্যাটাকিং ফুটবল, শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং দ্রুতগতির আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে গড়া আক্রমণভাগ ফ্রান্সের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দুশ্চিন্তায় রয়েছে মরক্কো। দলের অন্যতম উইঙ্গার ইসমাইল সাইবারি হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে ভুগছেন। শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে চোট পাওয়ার পর থেকেই তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। মরক্কো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু না জানালেও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, তার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা অনিশ্চিত। সাইবারির অনুপস্থিতি হলে আক্রমণভাগে বড় ধাক্কা খেতে পারে মরক্কো।
এদিকে ম্যাচ পরিচালনা করবেন আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি ফাকুন্দো তেলো। তার সহকারী হিসেবে থাকবেন হুয়ান পাবলো বেলাত্তি ও গাব্রিয়েল চাদে। চতুর্থ কর্মকর্তা দারিও হেরেরা এবং রিজার্ভ সহকারী রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ক্রিস্টিয়ান নাভারো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে দুই দলই। ফ্রান্স পাঁচ ম্যাচে ১৪ গোল করেছে, যার সাতটিই এসেছে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের পা থেকে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও তিনি এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে মরক্কো আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে।
কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবির অধীনে টেকনিক্যাল দক্ষতা, শারীরিক সামর্থ্য ও কৌশলগত শৃঙ্খলার সমন্বয়ে শক্তিশালী দলে পরিণত হয়েছে মরক্কো। তবে ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশমও নিজের দলকে নিয়ে আশাবাদী।
সব মিলিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের এই লড়াইকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে দুই দলই নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে প্রস্তুত।





