১৬/০৬/২০২৬, ১৮:১৩ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    বাতাস থেকেই মিলবে বিশুদ্ধ পানি

    জেড নিউজ ডেস্ক:

    এবার বাতাস থেকেই সংগ্রহ করা যাবে পানযোগ্য পানি। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের প্রকৌশলীরা এমন একটি বিশেষ জ্যাকেট তৈরি করেছেন, যা বাতাসে থাকা আর্দ্রতা থেকে সরাসরি বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করতে সক্ষম। গবেষণার ফলাফল বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত হয়েছে।

    গবেষকদের মতে, এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পাহাড়ি অভিযাত্রী, সেনাসদস্য, কৃষিশ্রমিক এবং জরুরি উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নির্ভরযোগ্য পানির উৎস সহজলভ্য নয়, সেখানে এটি কার্যকর সমাধান দিতে পারে।

    জ্যাকেটটির কাপড় তৈরি করা হয়েছে বায়োমাস থেকে উৎপাদিত বিশেষ ধরনের হাইড্রোজেল দিয়ে। এ উপাদান বাতাসে থাকা জলীয় বাষ্প শোষণ করে তা কাপড়ের ভেতর থাকা আলাদা সংগ্রহ ইউনিটে পৌঁছে দেয়। পরে ভাঁজ করা যায় এমন একটি সংগ্রাহক অংশের মধ্যে সূর্যের তাপে সেই আর্দ্রতা তরল পানিতে রূপ নেয় এবং তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়।

    পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাতাসের আর্দ্রতার মাত্রার ওপর নির্ভর করে জ্যাকেটটি প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৯০০ মিলিলিটার পর্যন্ত পানযোগ্য পানি উৎপাদন করতে পারে। গবেষকদের দাবি, প্রচলিত পানি সংগ্রহ প্রযুক্তির তুলনায় বৃহৎ পরিসরে এই বস্ত্রভিত্তিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা তিন থেকে দশগুণ বেশি।

    গবেষকরা জানান, এতদিন বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সংগ্রহের প্রযুক্তি মূলত স্থির যন্ত্র, যেমন প্যানেল বা বিশেষ শোষণ ইউনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন এই প্রযুক্তিতে সরাসরি কাপড়ের তন্তুর মধ্যেই পানির চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফলে বাতাসের জলীয় বাষ্প দ্রুত তরল পানিতে রূপান্তরিত হয়ে কাপড়ে জমা হতে পারে।

    একই গবেষক দল নেচার ওয়াটার সাময়িকীতেও আরেকটি গবেষণা প্রকাশ করেছে। সেখানে তারা সৌরশক্তিচালিত একটি পানি সংগ্রহ যন্ত্রের কথা তুলে ধরেছেন, যা শুষ্ক ও আধা-আর্দ্র উভয় পরিবেশেই প্রতিদিন ১ দশমিক ৩ লিটার বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের নতুন রেকর্ড গড়েছে। আর্দ্রতা সংগ্রহকারী প্রতি কেজি উপাদান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৩ লিটার পানি উৎপাদন সম্ভব হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

    এই যন্ত্রের মাঠপর্যায়ের পরীক্ষা চালানো হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর চিহুয়াহুয়ান মরুভূমি এবং টেক্সাসের অস্টিনে।

    গবেষকদের বিশ্বাস, বায়ুমণ্ডল থেকে পানি সংগ্রহের এসব প্রযুক্তি উত্তর আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার মতো পানি সংকটাপন্ন অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি ব্যাকপ্যাক, তাবু এবং জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রেও ব্যবহার করা যেতে পারে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়