২০/০৬/২০২৬, ১৫:০৫ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    মধ্যম সারির রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে মধ্যম সারির জীবাশ্ম জ্বালানিচালিত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ওপর বাড়তি করভার প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ রিকন্ডিশন ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)। পাশাপাশি ব্র্যান্ড নিউ ও রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির জন্য সমান শুল্ক সুবিধা এবং হাইব্রিড গাড়িতেও নীতিগত সহায়তা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

    শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন বারভিডা সভাপতি আবদুল হক।

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি মান্নান চৌধুরী খসরু, হাবিবুল্লাহ ডন, উপদেষ্টা শহিদুল ইসলাম, সাইফুল্লাহ সম্রাটসহ অন্য নেতারা।

    সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, সরকার বৈদ্যুতিক (ইভি) গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে আমদানিতে উল্লেখযোগ্য শুল্ক ছাড় দিলেও দেশে এখনো পর্যাপ্ত চার্জিং অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। অন্যদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এরই মধ্যে দেশে বিস্তৃত অবকাঠামো তৈরি হয়েছে। তাই টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইভির পাশাপাশি হাইব্রিড গাড়িকেও সমান নীতি সহায়তার আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়।

    সংগঠনটির দাবি, রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার স্থানীয় বিনিয়োগ রয়েছে। এ খাত থেকে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এছাড়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ব্যাংক, লিজিং ও বিমা খাতের সম্প্রসারণেও এ শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

    বারভিডার অভিযোগ, প্রস্তাবিত বাজেটে ১-১৫০০ সিসির পরিবর্তে ১-১২০০ সিসি এবং ১২০১-১৬০০ সিসি নামে নতুন স্ল্যাব নির্ধারণ করে জনপ্রিয় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ির ওপর সামগ্রিক করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ করা হয়েছে। এতে মধ্যবিত্তের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

    সংগঠনটির হিসাবে, কর বৃদ্ধির ফলে ফুয়েলচালিত একটি রিকন্ডিশন্ড প্রিমিওর দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা এবং একটি এক্সিওর দাম আড়াই লাখ টাকার মতো বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্তের জন্য গাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়বে, ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের রাজস্ব আদায়ও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

    প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে বারভিডা জানায়, সরকার নতুন গাড়ির জন্য শুল্ক সুবিধা দিলেও একই সুবিধা রিকন্ডিশন্ড গাড়ির ক্ষেত্রে দেওয়া হয়নি। বরং রিকন্ডিশন্ড প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে, যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে।

    সংগঠনটি দাবি করেছে, প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড নিউ ও রিকন্ডিশন্ড উভয় ধরনের গাড়ির জন্য সম্পূরক শুল্ক ও রেগুলেটরি শুল্ক সমান হারে নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে এ সুবিধা মাইক্রোবাসের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার আহ্বান জানানো হয়।

    এছাড়া ২০০১-২০২৫ সিসি ক্ষমতার প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ির সম্পূরক শুল্ক ৩০ শতাংশ নির্ধারণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ী হাইব্রিড গাড়িকেও প্লাগ-ইন হাইব্রিডের মতো শুল্ক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানায় বারভিডা। সংগঠনটির ভাষ্য, হাইব্রিড প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন মূল্যে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে অনেক ক্ষেত্রে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম নতুন গাড়ির চেয়েও বেশি হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে ন্যূনতম ১৫৯ দশমিক ৮০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০০৭ দশমিক ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে, যা অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করছে।

    বারভিডা সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ও যৌক্তিক কর কাঠামো প্রণয়ন, শুল্ক বৈষম্য দূরীকরণ এবং রিকন্ডিশন্ড মোটরযান খাতের টেকসই উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়