জেড নিউজ ডেস্ক :
বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) গিবতের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার এমন দোষের কথা বলা, যা সে অপছন্দ করে, তা গিবত। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, কথাটি যদি তার মধ্যে সত্যিই থাকে? তিনি বললেন, তা থাকলে তুমি তার গিবত করলে; আর তা না থাকলে তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৮৯)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কারো অনুপস্থিতিতে তার ব্যাপারে কোনো কথা বলা কিংবা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া ইসলামে অত্যন্ত নিন্দনীয়। আবার কোনো কথা সত্য হলেও তা অন্যের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রচার করা গিবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তাই কাউকে হেয় করার জন্য তার ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা কিংবা তার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ছড়ানো থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
গিবত হলো একটি দ্বিমুখী পাপ। এতে একই সঙ্গে মহান আল্লাহর বিধান অমান্য করার অপরাধ হয় এবং বান্দার হকের (মানব অধিকার) ওপর আঘাত হানা হয়। তাই শুধু আল্লাহর কাছে আস্তাগফিরুল্লাহ পড়লেই গিবতের গুনাহ মাফ হয় না।
যদি যে ব্যক্তির গিবত করা হয়েছে সে বিষয়টি জেনে গিয়ে থাকে, তবে তার কাছে গিয়ে সরাসরি ক্ষমা চেয়ে মন পরিষ্কার করে নিতে হবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪৪৯)
আর যদি সেই ব্যক্তি বিষয়টি একেবারেই না জেনে থাকে, তবে তাকে জানিয়ে নতুন করে সম্পর্ক নষ্ট বা আঘাত না দিয়ে, তার জন্য বেশি বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে, গোপনে তার প্রশংসা করতে হবে এবং তার কল্যাণ কামনা করে দোয়া করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে অপপ্রচার ও অন্যের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন কথা-বার্তা বলা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুক।
আমিন।





