spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

জেড নিউজ, ঢাকা:

আমাদের পছন্দের নাশতার তালিকায় শিঙাড়া বেশ জনপ্রিয়। চায়ের সঙ্গে শিঙাড়া খেতে ভালোবাসেন অনেকেই। দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় রাস্তার পাশের দোকান থেকে শুরু করে অফিসের নাশতার টেবিল-সব জায়গাতেই এর দেখা মেলে। তবে সুস্বাদু এই নাশতা খাওয়ার পর কারো কারো পেটে গ্যাস, বুকজ্বালা, ঢেকুর বা পেট ভার হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই অ্যাসিড রিফ্লাক্স বা বদহজমের সমস্যা আছে, তাদের অস্বস্তি বাড়তে পারে। শিঙাড়া সাধারণত ময়দার আবরণে আলু ও মসলা ভরে ডুবো তেলে ভাজা হয়। ফলে এতে চর্বি ও ক্যালরি বেশি থাকে।

খালি পেটে শিঙাড়া খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে-
বুকজ্বালা ও অ্যাসিড রিফ্লাক্স
তেল-চর্বিযুক্ত খাবার কিছু মানুষের পাকস্থলী থেকে অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে আসার সমস্যা বাড়াতে পারে। ফলে বুকজ্বালা, টক ঢেকুর বা গলায় অস্বস্তি হতে পারে।

পেট ভার ও বমিভাব
ডুবো তেলে ভাজা খাবার হজম হতে তুলনামূলক বেশি সময় নিতে পারে। বেশি পরিমাণে শিঙাড়া খেলে পেট ফাঁপা, ভার লাগা বা বমিভাব দেখা দিতে পারে।

অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ
শিঙাড়ার ক্যালরি এর আকার, পুর ও ভাজার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। তাই সব শিঙাড়ায় একই পরিমাণ ক্যালোরি থাকে না। নিয়মিত বেশি পরিমাণে খেলে দৈনিক প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের আশঙ্কা থাকে।

দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি
নিয়মিত সকালে তেল ও চর্বিযুক্ত খাবার খেলে পরবর্তীতে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

শিঙাড়া খাওয়ার পর অ্যাসিডিটি হলে ঘরোয়া পদ্ধতিতে কী করবেন-

পানি পান করুন
শিঙাড়া খাওয়ার পর এক গ্লাস হালকা গরম পানি পেটে জমে থাকা তেলকে আলগা করে এবং হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর ফলে এসিডের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না
শিঙাড়া খাওয়ার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা শোয়া এড়িয়ে চলুন। সোজা হয়ে বসে থাকুন কিংবা হালকা হাঁটাচলা করুন। এতে কিছু মানুষের অ্যাসিড রিফ্লাক্সের অস্বস্তি কমতে পারে।

জোয়ান ও মৌরি খেতে পারেন
জোয়ান বা মৌরি খেলে কারো কারো পেটের অস্বস্তি কম মনে হতে পারে। আধা চামচ জোয়ানের সঙ্গে এক চিমটি বিট লবণ মিশিয়ে চিবিয়ে খেলে গ্যাস ও বুকজ্বালা থেকে সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাওয়া যায়।

তবে বিট লবণে সোডিয়াম থাকে, তাই উচ্চ রক্তচাপ বা অন্য কারণে যাদের লবণ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, তাদের সতর্ক থাকা উচিত। মৌরি বা মৌরির পানিও খুব কার্যকরী। শিঙাড়া খাওয়ার পর ১ চামচ মৌরি চিবিয়ে খান অথবা মৌরি পানিতে ফুটিয়ে পান করুন। এটি পেট ঠান্ডা রাখে এবং এসিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

দুধ, কলা বা দই বেছে নিন বুঝে শুনে
দুধ পেটের জ্বালা কমায় এবং এসিডকে নিউট্রাল করে। তবে খেয়াল রাখবেন দুধ যেন হালকা বা খুব বেশি ঠান্ডা না হয়। কলা বা দই খেলেও আরাম পাওয়া যায়। কলা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিডের মতো কাজ করে, অন্যদিকে দই পেটের ভালো ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজমশক্তি উন্নত করে।

দুধে সাময়িক স্বস্তি মিললেও বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত দুধ কিছু মানুষের বুকজ্বালা বাড়াতে পারে। তাই যে খাবারে নিজের অস্বস্তি বাড়ে, সেটি এড়িয়ে চলুন।

শিঙাড়া খাওয়ার সময় যে সতর্কতা মানবেন
খালি পেটে শিঙাড়া খেলে সবার সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে খালি পেটে তৈলাক্ত খাবার খেলে যাদের অস্বস্তি হয়, তারা আগে হালকা ও সুষম খাবার খেতে পারেন। একসঙ্গে অনেকগুলো শিঙাড়া না খেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। অতিরিক্ত ঝাল চাটনি ও কোমল পানীয়েও অস্বস্তি বাড়লে সেগুলো এড়িয়ে চলুন।

প্রতিদিন কয়টি আমন্ড খাওয়া স্বাস্থ্যকর
শিঙাড়া খাওয়ার পর বারবার বুকজ্বালা হলে শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বুকের তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম বা ব্যথা হাত কিংবা চোয়ালে ছড়িয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিন-এগুলোকে শুধু অ্যাসিডিটি ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়।

শিঙাড়া একেবারে বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ, খাবারের ধরন বুঝে খাওয়া এবং নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়