জেড নিউজ, ঢাকা:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকারকে সমুন্নত রেখে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করে আগামী দিনে একটি আধুনিক ও পেশাদার এলিট ফোর্স গঠনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার র্যাব ফোর্সেসের আইনি কাঠামোতে সংস্কার এনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুসংহত নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানী ঢাকায় র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে আয়োজিত বাহিনীর ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, র্যাব মূলত বাংলাদেশ পুলিশ (৪৪ শতাংশ), সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ (৪৪ শতাংশ) এবং আনসার, বিজিবি ও সিভিল স্টাফদের সমন্বয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত এলিট ফোর্স। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
র্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ সুনির্দিষ্টভাবে বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে শেখ হাসিনা তার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার উগ্র বাসনা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই বাহিনীকে পুতুলের মতো ব্যবহার করেছিলেন। কিছু কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আইনবহির্ভূত ও বিপথগামী কর্মকাণ্ডের কারণে আজ পুরো প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা সুনির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তার অপরাধের দায়-দায়িত্ব পুরো প্রতিষ্ঠান নিতে পারে না। দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে স্ব-স্ব বাহিনীর আইনি কাঠামো অনুযায়ী কঠোর তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অনুশাসন দেওয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, নতুন আইনের অধীনে যখন এই বাহিনীকে সংস্কার, পুনর্গঠন কিংবা নতুনভাবে নামকরণ করা হবে, তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি অবশ্যই পুনর্বিবেচনা করবে।
আইনি সংস্কারের যৌক্তিকতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৫-২০ বছর ধরে র্যাব সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাধীন আইনের অধীনে পরিচালিত না হয়ে, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) আইনের একটি বিশেষ ধারার ওপর ভিত্তি করে মূলত ‘অ্যাডহক’ ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। একটি রাষ্ট্রীয় এলিট ফোর্স সুদীর্ঘকাল অন্তর্বর্তীকালীন কাঠামোয় চলতে পারে না।
তিনি জানান, এই আইনি ত্রুটি দূর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের ‘আইন প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে, যা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন।
প্রস্তাবিত নতুন আইনে বাহিনীর সুনির্দিষ্ট কর্তৃত্ব, দায়িত্বের পরিধি এবং একইসঙ্গে কঠোর জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের বিধান যুক্ত করা হবে। বাহিনীর বর্তমান সম্পদ, লজিস্টিকস ও সক্ষমতা এই নতুন আইনের অধীনে প্রতিস্থাপিত হবে।
বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও নিরপেক্ষতার প্রমাণ হিসেবে ‘মর্নিং শোজ দ্য ডে’ প্রবাদের উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মাসে পুলিশ, র্যাব কিংবা অন্য কোনো বাহিনীকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা কোনো দলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই এই বাহিনীর একমাত্র লক্ষ্য।’
বিগত সরকারের আমলে গুম ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত এবং বিচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী গুম কমিশনের কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট আইনগত এখতিয়ার ছিল না। ফলে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, সরকার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধন ও শক্তিশালীকরণের কাজ করছে। এই আইনের সংস্কার সম্পন্ন হলে গুমের শিকার, গুমের হুমকিপ্রাপ্ত কিংবা নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রতি হওয়া সব ধরনের অপরাধের বিচার সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় এই বিশেষ আদালতেই নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবার সরাসরি ন্যায়বিচার পাবেন।



